সাংখ্য চক্রবর্তী

অভিধান

282 entries


আ করি চাওআ

/a kɔri tʃaoa/

অবাক হয়ে দেখা।

হেই বেটা, ছুগরিইগুর বায় আ করি কিতা চাস।

আ₃

/a₃/

স্বার্থে বা নিজের অর্থে ব্যবহৃত হয়। তৈরি করে বিশেষণ।

নিজ + আ > নিজা = নিজা ভিটা।

আই₃

/ai₃/

বরাক উপত্যকায় প্রচলিত কার্তিক মাসে অনুষ্ঠিত ‘রাখালসেবা’ নামক ব্রতের ছড়াগান।

আই রে আই / বনর ভাই / বন জ্বলে / লখকি ফলে / গৌড়র গোবিন / মইপাল (= মহীপাল) / তাইন দিলা / ফলাহার / ফলাহার খাইআ / ধন লইআ / ডাইনে সিংগাসন / বাউএ থইআ / আইর জনম / দিলাম কইআ / আইন জাইতে / কাতি হামাইতে / শানতির পুতে / ভুই জুড়িতে / আস্ররা ধানর / লাম্বা পাত / হিজা ছাড়ে / আড়াই আত / চইলতা গাছে / ধরছে কাড়ার / একই কিত্তায় / ভরছে নয়ানর ভাড়ার।

আইআ

/aia/

ক্রিয়াবিশেষণ গঠনে এটি ব্যবহৃত হয়।

মিরমির + আইআ > মিরমিরাইআ [চোখ ছোট করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে]

আইক

/aik/

বাঁশের পর্বগ্রন্থি; বাঁশের গিঁঠ।

উকইত বানাইতে আগপাবর আইক রাখা লাগে।

আইচ্ছা

/aitʃtʃʰa/

সম্মতিসূচক শব্দ।

আইচ্ছা, মুই নিজেউ জাইমু বা আনাত।

আইড়

/aiɽ/

বড় আকারের আঁশহীন মাছ বিশেষ। ডানায় কাঁটা থাকে। শক্ত ও ছুঁচলো শুঁয়োও আছে।

আইদা

/aid̪a/

সবজি, মাছ প্রভৃতি কুটবার দা; বঁটি দা।

অই বেটি, আইদা পাতাইআ থইস না।

আইনোটি

/ainoʈi/

দুরন্ত [কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে]।

আইনোটির লগে কুনোখানো জাইস না।

আইনোটিবানা

/ainoʈibana/

প্রগল্‌ভতা; অশালীন আচরণ।

বিআবাড়িত গেলেউ তাই আইনোটিবানা করব।

আইল

/ail/

আল; আলবাঁধ। জল আটকানো, সীমা নির্দেশ বা হাঁটা চলার জন্য সমতল জমিতে উঁচু করে যে বাঁধ দেওয়া হয়, তাকে ‘আইল’ বলে।

তুমরার বড় আইল ভাংগিআ পানি জার।

আইস্‌লা

/ais‌la/

আঁশটে; মাছের গন্ধযুক্ত।

পানিত আইসলা গন্ধ করের।

আউ

/au/

আউশ ধান; যে সব ধানের চাষ গ্রীষ্মকালে হয়।

মনতেতই আউধানর মাঝে হকলতনে শাদ।

আউআ₂

/aua₂/

ফাটক; ফাঁক।

পাঅর তলা ফাটিআ আউআ অই রইছে।

আউকালি

/aukali/

ঝগড়া; উপদ্রব; ঝামেলা।

বেটাইনতে হুদদাহুদদি আউকালি করইন।

আউকি

/auki/

শিশুর আবদার; শিশুর কান্নাকাটি।

তুমার পুড়িএ দেখলাম এখেরে আউকি করে না।

আউকির বাদা

/aukirɔ bad̪a/

যে শিশু নানা আবদার করে মা-বাবাকে অস্থির করে তোলে।

আউজ₁

/auz₁/

হাল চাষের সময় যতটুকু জমি এক দফায় চাষ করা হয়; হাল চালনার পরিক্রমণে যতটুকু জমি দরকার হয়; হাল চালনার বিভাগ।

ধলপর দিতেউ আল লইআ বারইছ, ক আউজ চইছ?

আউঞ্জ

/aunz/

জোয়ালের গোলাকার দড়ি যার সঙ্গে ঈশ সংযুক্ত করা হয়।

আউটা₁

/auʈa₁/

বারান্দার উঁচু বেড়া।

‘বাড়ির সুনদর আউটাবেড়া / ঘরর সুন্দর নারি।’

আউড়

/auɽ/

আড়াল।

কুনতা দি আউড় দেও নাইলে পথ তনে দেখা জাইব।

আউড়ি দেবা

/auɽি d̪eba/

লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়া; অদৃশ্য হওয়া।

পিরসাব আতা আউড়ি দিলাইন।

আউত্রা

/aut̪ra/

কাঠমিস্ত্রি ব্যবহৃত বিশেষ আকৃতির হাতুড়ি বিশেষ; Carpenter's Hammer।

আউন্জ্

/aunz/

জোয়ালের গোলাকার দড়ি যার সঙ্গে ঈশ সংযুক্ত করা হয়।

আউবিরইন

/aubirɔin/

গ্রীষ্মকালে উৎপাদিত বিন্নি বা বিরন ধান বিশেষ। ধান ও চাল লাল। ভাত মিষ্ট আঠালো সুস্বাদু হয়।

আউমুরালি

/aumurali/

মাঝারি দানার আউশ ধান। সোনালি ধান। চাল লাল। স্বাদে সুমিষ্ট।

আউর

/aur/

বন্যার জলে ভেসে আসা জঞ্জাল।

আউরতিআ

/aurɔt̪ia/

আশ্রয়প্রাপ্ত।

হেরা এলকু আউরতিআ বাড়িত আছইন।

আউরা

/aura/

হারিয়ে ফেলা।

তাই বই আউরাইআ পথো বইআ কানদিরি।

আউরানি

/aurani/

হারানো।

ছাত্তি আউরানি ভালা নায়।

আউরি

/auri/

উদ্দেশ্যহীন ভাবে।

ইলা আউরি ঘুরিআ লাভ নাই, বাড়িত জাও।

আউরি লাগা

/auri laɡa/

পথ ভুলে যাওয়া।

পাড়ো মউ ভাংগাত গিআ মউআ আউরি লাগিগেছলা।

আউরির দিন

/aurirɔ d̪in/

শীতকাল; যখন গোরুমহিষ শস্যহীন মাঠে চরে বেড়ায়। অঘ্রানের শেষে ধান কাটা সারা হলে খোলামাঠে গোরুমহিষ ছাগলকে যখন চরতে দেওয়া হয়।

‘কাইল অনোর বের অখান দেওআ লাগব, আউরির দিন আইঅর।’ — বদরুজ্জামান চৌধুরি

আউলজাউল

/aulɔzaul/

যার চিন্তাশক্তি সুশৃঙ্খল নয়; ছিটগ্রস্ত।

বিআর বাদে আতা বাসন্তির বইনগু আউলজাউল অই গেছে।

আউলা₁

/aula₁/

আলোড়ন।

ই আউলায় বুঝা জার মাছ বড়।

আউলাইল

/aulail/

আলুথালু।

তাই আউলাইল চুল লইআ পাগলির লাখান হারাদিন ঘুরে।

আউলাফাতারি

/aulapʰat̪ari/

উলটোপালটা; এলোপাতাড়ি।

বনুআ আত্তি দেখিআ হকলে লাগাইছইন আউলাফাতারি দউড়।

আউলাু

/aulaু/

ভবঘুরে।

মোর হরুভাই আউলা অইআ কুনবায় দি জে গেছে কুনো পাত্তা নাই।

আউলা্ব

/aula্b/

এলোমেলো; যা পরিপাটি নয়।

একমাথা আউলা চুল আর দাড়ি।

আওআ₁

/aoa₁/

পুরুষ হাঁস।

আওআ না রাখলে আইর ডিমে বাইচচা অয় না।

আওআনি

/aoani/

বেত বা বাঁশের শলাকা চেঁছে মসৃণ করা।

তাইন বেত আওআইত্রা তুমি খাপ ফারো।

আওআল

/aoal/

একপ্রকার বৃক্ষ।

আওআ্ব

/aoa্b/

পুরুষ হাঁস। -আ > আঅআ থেকে আওআ।

আওআ না রাখলে আইর ডিমে বাইচচা অয় না।

আওইআ

/aoia/

অগ্রসর হয়ে।

জামাইগুরোরে আগুইআ আনগি।

আওখান

/aokʰan/

এই জিনিষ; এই বিষয়; এই কথা।

আওখান লইলাও, কামো লাগব।

আওচা

/aotʃa/

‘জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তির পর যে সময় সূর্য মিথুন রাশিতে গমন করিয়া আর্দ্রা নক্ষত্রের প্রথম পাদ ভোগ করে সেই সময়ের নাম।’

আওটা

/aoʈa/

এটা; এই জিনিস বা বিষয় বা কথা।

আওতি

/aot̪i/

অতিথি; আগন্তুক।

ভুবনর মেলার সময় কান তনে আওতি আইআ বাড়ি ভরি জাইন।

আওলাত

/aolat̪/

ধার; ঋণগ্রহণ।

চাললিশটেকা আওলাত লইআ ডাকতর দেখাইছি।

আওলে

/aole/

জিম্মায়; তত্ত্বাবধানে।

আমি হকল মাল তুমার আওলে থইআ জাইআর।

আংগরখা

/aŋɡɔrɔkʰa/

নিমা; ছোট আকারের জামা।

মোর আংগরখা কানো?

আংগা

/aŋɡa/

উত্তেজনাকর সাংকেতিক ধ্বনি।

আংগা দেওআ

/aŋɡa d̪eoa/

সাংকেতিক ধ্বনি দিয়ে কোথাও যাওয়ার জন্য উত্তেজিত করা।

আংগাজ

/aŋɡaz/

সহ্য করার ক্ষমতা; সহিষ্ণুতা।

ভার বইতে আংগাজ লাগে।

আংগি

/aŋɡi/

বাঁশের পর্বের খোলস বা ঢাকনা; নারকেলের বোঁটা।

আংগুড়গালা

/aŋɡuɽɡala/

হামাগুড়ি।

সাতমাসর হরুতায় আংগুড়গালা দেবা হিখইন।

আংগুলর আগাত বিশ

/aŋɡulɔrɔ aɡat̪ɔ bis/

চরম মুহূর্ত।

আইজ বাদ কাইল পরিখা, এলকু মোর আংগুলর আগাত বিশ, খেড়ির সময় নাই।

আংণ্ডলর আগাত বিশ

/aŋnɖɔlɔrɔ aɡat̪ɔ bis/

চরম মুহূর্ত।

আইজ বাদ কাইল পরিক্খা, এলকু মোর আংগুলর আগাত বিশ, খেড়ির সময় নাই।

আংরামড়

/aŋramɽ/

অঙ্গার রাখার পাত্র। এই পাত্রটি কামারশালাতে অঙ্গার বা কাঠকয়লা রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়।

আংলা

/aŋla/

আঙুল পরিমাণ।

তিন আংলা (= তিন আঙুল পরিমাণ)।

আকড়ি

/akɽি/

হাতি তাড়ন দণ্ড। লোহার তৈরি এই দণ্ডের দুটি মুখ। মুখ দুটি সূক্ষ্মাগ্র। একটি মুখ সোজা, অন্যটি আঁকশি বা বড়শির মতো বাঁকা। কানের পাতায় ও মাথার বিশেষ স্থানে আঘাত করা হয় এটি দিয়ে।

আকি

/aki/

ভাবার্থে বা বৃত্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়।

পির + আকি > পিরাকি [= পিরের অলৌকিক কর্ম]

আকি আকি আনা

/aki aki ana/

ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে আসা।

হিতায় মোরে আকি আকি আনিআ বেরাচাটো ফালাইছইন।

আকি আকি রাখা

/aki aki rakʰa/

আগলে রাখা।

কয়দিন তনে তাইরে মুই আকি আকি রাখিআর।

আকুটালি

/akuʈali/

শিশুর দৌরাত্ম্য; দুরন্তপনা।

ছুগরাটায় বড় আকুটালি করের।

আকুড়

/akuɽ/

উচ্ছিষ্ট ও আবর্জনা ফেলার স্থান।

বাই ছালন আকুড়ো ফালাইঅ না, কুকুরে দিলাও।

আক্কল

/akkɔl/

বুদ্ধি; কাণ্ডজ্ঞান; ভালোমন্দ বিচারের ক্ষমতা।

অউনি তোর আক্কল, কুটিমুটি পুড়িরে হানজাবালা একলা পাঠাইদিসত্।

আখ

/akʰ/

পেনসিল বা কলমের দাগ বা রেখা।

ই পেনসিলে সেলেটো আখ ফুটের না।

আখআখি

/akʰɔakʰi/

ক্ষুধার যন্ত্রণা।

আল চআত থাকি আইলে পেটো আখআখি করে।

আখতা

/akʰɔt̪a/

হঠাৎ; বিনাকারণে।

‘আমি আইলাম আতা, আমারে কয় ভাত খা।’

আখতাপিতা

/akʰɔt̪apit̪a/

হঠাৎ; আগে জানা বা বোঝা যায়নি এমনভাবে।

হিদিন তান আখতাপিতা কিতা অইল ধারি তনে লামতেই দড়াস্ করি পড়িগেছইন।

আখল

/akʰɔl/

বুদ্ধি; কাণ্ডজ্ঞান।

আখাটা

/akʰaʈa/

মন্দ; যে সর্বদা কুকথা বা অশ্লীল কথা বলে।

তোর জামাইটা বড় আখাটা, জেতা মুখো আয় অতা মাতে।

আখাটা গাছ

/akʰaʈa ɡatʃʰ/

যে গাছ মূল্যবান নয় বা বিশেষ কাজে আসে না; নিচুমানের গাছ।

আখাটা গাছর খুটা ঘরো লাগাইতাম নায়।

আখাটা মাত

/akʰaʈa mat̪/

অশ্লীল বাক্য।

ইনো আখাটা মাত মাতিস না।

আখাঠা

/akʰaʈʰa/

লাভ করবার প্রবল ইচ্ছাযুক্ত; তৃষিত।

তুমার বিআ খাইবার লাগি মুই আখাটা নায়।

আখাফেন্দা

/akʰapʰend̪a/

যে কাজ অকাজের সামিল; যে কাজ প্রকৃত কাজে বিঘ্ন ঘটায়।

কামর মাঝখানো আইআ আখাফেনদা করিস না।

আখাশ্টা

/akʰasʈa/

লাভ করবার প্রবল ইচ্ছাযুক্ত; তৃষিত।

তুমার বিআ খাইবার লাগি মুই আখাশ্টা নায়। >> ববাং হা দীর্ঘপ্রত্যাশা > আ + কাষ্ঠ + আ তপ্র. সাদৃশ্যে অর্থাৎ কাষ্ঠবৎ শুষ্ক। অর্থাৎ জলের জন্য কাঠের মতো শুষ্কবুকে হা করে থাকা চাতক পাখি সদৃশ তৃষ্ণাযুক্ত।

আখেরি

/akʰeri/

অন্তিম।

মানুগুইন বেশ উছলিগেছইন গি, এরার আখেরি দিন ঘনাইআ আর মনলয়।

আখ্তা

/akʰt̪a/

হঠাৎ; বিনাকারণে।

‘আমি আইলাম আখ্তা, আমারে কয় ভাত খা।’ – বরাকপ্রবাদ » ময়য়নসিংহ আঞ্চলিক বাংলায় ‘আত্কা’ শব্দটি একই অর্থে প্রচলিত। I

আখ্তাপিক্তা

/akʰt̪apikt̪a/

হঠাৎ; আগে জানা বা বোঝা যায়নি এমনভাবে।

হিদিন তান আখতাপিক্তা কিতা অইল ধারিত্ তনে লামতেই দড়াস্ করি পড়িগেছইন। G

আগচালা

/aɡɔtʃala/

ঘরের সামনে বা পেছনে পরিবর্ধিত চাল বা বারান্দা।

পিছেদি একখান আগচালা বানাইআ ঢেকি পাতিমু।

আগচুরা

/aɡɔtʃura/

যে বাঁশ বা গাছের আগায় শাখা বা পাতা নেই; যে ধানগাছের ছড়া ধানশূন্য।

আগচুরা ডলুদি মানডব ঘরর রুআ পুইত নায়।

আগতিলা

/aɡɔt̪ila/

আগেভাগে; নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে।

বারিশা পড়ায় আমরা ইবার আগতিলা খেতো সামি গেছি।

আগন

/aɡɔn/

অগ্রহায়ণ; প্রচলিত ক্রম অনুসারে বাংলার অষ্টম মাস।

‘থাকো কুত্তা বারো মাস / ভাত খাইবে আগন মাস।’

আগপুরা

/aɡɔpura/

যে বাঁশ, ধান বা গাছের আগা স্বাভাবিক দীর্ঘ ও ফুলফল পাতায় পরিপূর্ণ।

আগপুরা বা দেখি কাটিও।

আগর

/aɡɔr/

কাঠ ছিদ্র করার যন্ত্র বিশেষ; তুরপুন। A tool used for making round holes.

আউতরা টাংগি আগর আরি বাইশখান চুরে / নিলগি তিনখান; রইল ক খান?

আগরা

/aɡɔra/

মলত্যাগকারী; হাগে যে।

‘আগরার শরম নাই দেখবার শরম।’

আগরাইল

/aɡɔrail/

উৎকৃষ্ট শালি ধান বিশেষ। ধান সোনালি। সাদা ঝকঝকে চাল। সুগন্ধ ও উপাদেয়।

আগা₂

/aɡa₂/

মলত্যাগ করা।

পানিত আগিঅ না।

আগার

/aɡar/

দীর্ঘ জমি খণ্ডের প্রথমাংশ; জমিপাট্টার ক্রম অনুযায়ী জমির শুরুর ভাগ।

মোর পইচমর জমিনর আগার পানিএ বুড়াইছে।

আগারি

/aɡari/

‘মাত্রা’ বোঝাতে; করে।

ইনো সবতা কেজি আগারি বিকি অয়।

আগুইআ

/aɡuia/

অগ্রসর হয়ে।

জামাইগুরোরে আগুইআ আনগি।

আগুইন

/aɡuin/

আগুন।

‘আগুইন বেটা কুড়িআ / রইদ বেটা রাজা / মানু দে না ছাড়িআ, / মানু করে তাজা।’

আগে

/aɡe/

অগ্রসর হ [অনুজ্ঞায়]। পারিভাষিক শব্দ। হাতিকে আগে বাড়ার জন্য আদেশ। মাহুত পা দিয়ে হাতির কানের গোড়ায় মৃদু আঘাত করবে।

আচরিপিচরি

/atʃɔripitʃɔri/

নখ দিয়ে খামচা মেরে বা আঁচড় কেটে কেটে।

মেকুরইগে ডরাইআ আচরিপিচরি গাছো উঠিছে।

আচানকা

/atʃanɔka/

আশ্চর্য ও দুর্লভ।

ইতা কুনু এক আচানকা চিজ নি?

আচানি

/atʃani/

খাওয়ার পর হাত-মুখ ধোয়া।

অবা, ছাবিত গি আচাও।

আচেটা

/atʃeʈa/

অশ্লীল; যা শিষ্টজন মুখে উচ্চারণ করেন না।

আচেটা মাত মুখো আনিস না।

আছনিপাছনি

/atʃʰɔnipatʃʰɔni/

কুটিনাটি কাজ; কুটিনাটি কাজ করার জন্য হুকুম।

আছনিপাছনি করার লাগি ছুগরি এগু ঘরো আছে।

আছি আছি নাই নাই

/atʃʰi atʃʰi nai nai/

অনাসক্ত; থাকা না-থাকা সমান এমন।

মুই ই সংসারো এলকু আছি আছি নাই নাই।

আছুলা₁

/atʃʰula₁/

যার খোসা বা বাকল ছাড়ানো হয়নি।

আছুলা বা (= বাঁশ)।

আছুলা্

/atʃʰula্/

যার খোসা বা বাকল ছাড়ানো হয়নি।

আছুলা বা (= বাঁশ)।

আজত

/azɔt̪/

বিচারাধীন আসামির জন্য নির্দিষ্ট বন্দিশালা।

সরকারর টেকা মারিআ এলকু আজত খাটিত্রা।

আজলা

/azɔla/

বাক্ প্রত্যঙ্গের ত্রুটির জন্য যে সবকথা উচ্চারণ করতে পারে না এমন।

কুটিলাল আজলা; তার হকল মাত বুঝা জায় না।

আজলানি

/azɔlani/

আজলার কথাবলা।

কিতা করলে পুআগুর আজলানি কমব।

আজাইর

/azair/

খালি; শূন্য।

খিরানিগু আজাইর করি দেও, বাইচা ছাড়ি দিছি।

আজানডা

/azanɔɖa/

জানে না এমন; অজ্ঞ।

আজানডার গেছে গিআ লাভ নাই।

আজানি

/azani/

দরজা জানালা ইত্যাদি বন্ধ করা।

মেঘে মারের, দুআর আজাও।

আজান্ডা

/azanɖa/

জানে না এমন; অজ্ঞ।

আজানডার গেছে গিআ লাভ নাই। — অনভিজ্ঞ; অভিজ্ঞতা নেই এমন।

আজি₁

/azi₁/

যে ব্যক্তি হজ্ থেকে পুণ্যার্জন করে ফিরে এসেছে; মক্কাতীর্থ দর্শনকারী।

হেশকালো তাইন আজি অইআ আইছইন।

আজিরা

/azira/

দৈনিক মজুরি বা পারিশ্রমিক; মজুরের কাজ।

তাইন আজিরাত গেছইন।

আটকুরা

/aʈɔkura/

যার কোনো সন্তান হয়নি এমন। স্ত্রীং আটকুরি।

আটকুরার ধন পাইআ এলকু তারা ধনালা।

আটা

/aʈa/

আঁট দেওয়া।

ভালাকরি আটাইআ বান্ধু দিও।

আটাইল

/aʈail/

রক্তশোষক অতিক্ষুদ্র কীট বিশেষ; এঁটুলি; Tick. গোরু মোষ কুকুর প্রভৃতি জন্তুর গায়ে সেঁটে থাকে এবং চামড়া ফুটো করে রক্ত শোষণ করে বাঁচে। আকারে আণবীক্ষণিক থেকে এক মিলিমিটার পর্যন্ত। আটখানা পা। মাথা-বুক-পেট একাকার।

গনদি পাতার রস দিলে গরু বয়ারর আটাইল ছাড়ইন।

আটাইলপিটাইল

/aʈailɔpiʈail/

পরিমিত ও ঘনীভূত।

তাইর রান্ধা আটাইল পিটাইল বেনজন খাইতে অলা শাদ।

আটানি

/aʈani/

ঢেঁকিতে ধান কোটার সময় ব্যবহৃত যন্ত্রবিশেষ।

আটাপিটাই

/aʈapiʈai/

ব্যায় সংকোচ করে।

বাজারো হকলতা আগুইন আটাপিটাই চল।

আটালি

/aʈali/

আঠাযুক্ত।

খাঠাম গড়াত আটালি পাক লাগে।

আটি₁

/aʈi₁/

হাট বা বাজারের অংশ। বাজারে এক এক জাতীয় পণ্য বেচাকেনার জন্য এক একটি অংশ নির্দিষ্ট থাকে। যেমন, চাউল আটি, আনাজ আটি, মাছআটি।

আটিপিটি

/aʈipiʈi/

জবুথবু হয়ে; সংকুচিত হয়ে।

হি ঠানডায় গাংগর পারো আটিপিটি বই রইছে।

আটিল

/aʈil/

আঁটসাট; যা আঁটো বা সংকুচিত হয়ে গেছে; মজবুত।

তুমার আংগরখা আটিল অইগেছে।

আটু এ কাপা

/aʈu e kapa/

দুর্বল বোধ করা; ভয় উপস্থিত হওয়া।

এলকু উমর বাড়িছে জবর কামো লাগলে আটু এ কাপে।

আটু বুকুত দেবা

/aʈu bukut̪ɔ d̪eba/

শক্ত কাজের জন্য তৈরি হওয়া।

আটু বুকুত দি হি ইবার খেতো লামছে।

আটে-চাইরে

/aʈe-tʃaire/

মাঝে মাঝে; অনেকদিন পরপর; কোনো কোনো দিন।

আগে তাইন বরাবর আইতা, এলকু আটে-চাইরে আইন।

আঠিকলা

/aʈʰikɔla/

কাঁঠালি কলা। বেশ বড় আকার। স্বাদ মধুর তবে শাঁস বড় বড় বিচিতে ঠাসা। খাদ্যরূপে কলাটি মোটেই জনপ্রিয় নয়। মোচা খেতে মন্দ নয়।

আড়

//

আড়কাঠ।

ই গাছ আড়ো তুলতে আরো মানু লাগব।

আড়ল

/aɽl/

বোকা।

অলা আডুল, সাএবরে মুখ খুলিআ নিজর কথা খান কইত পাললো না। — মোটাবুদ্ধি।

আড়লামি

/aɽlami/

মোটাবুদ্ধির কাজ।

মাথা খাটাইআ চলিস, আড়লামি করিস না।

আড়া

/aɽা/

আড়াল করা; প্রতিরোধ করা।

দইর বা’ঝারে রইদ আড়ে এরশালে উঠনিখান চেম্বা।

আড়ি পানজর অআ

/aɽি panɔzɔrɔ ɔa/

অত্যধিক খাটুনিতে শরীর ভেঙে পড়া।

পুআপুড়িনতর লাগি মোর আডডি পানজর অইল।

আড়ি₂

/aɽি₂/

কানের ভেতরের অংশ; কানের অভ্যন্তরের হাড়।

খুচা গিআ কানর আড়িত লাগছে।

আড়িকুনা

/aɽিkuna/

ঈশান কোণ।

আড়িকুনাবায় মেঘ করের।

আড়ুআমি

/aɽুami/

একগুঁয়েমি।

আড়ুআমি করিস না, মাফ্ চা গি জা।

আড়ুল

/aɽুl/

বোকা।

অলা আঙুল, সাএবরে মুখ খুলিআ নিজর কথা খান কইত পাললো না।

আড়ুলামি

/aɽুlami/

মোটাবুদ্ধির কাজ।

মাথা খাটাইআ চলিস, আঙুলামি করিস না।

আড়েংগা

/aɽেŋɡa/

সবুজ রঙের ভেষজলতা বিশেষ। হাড় ভেঙে গেলে বা হাড়ে ফাটল ধরলে এই ভেষজলতাটি দিয়ে ঔষধ তৈরি করে প্রয়োগ করা হয়। এই লোকায়ত চিকিৎসা পদ্ধতিটি খুবই কার্যকারী।

আড্ডাআড়ি

/aɖɖaaɽি/

প্রচণ্ড; তীব্র।

ইবার দুদলে আড্ডাআড়ি লাড়াই অইব।

আড্ডাআড্ডি

/aɖɖaaɖɖi/

প্রচণ্ড; তীব্র।

ইবার দুদলে আড্ডাআড্ডি লাড়াই অইব।

আড্ডি

/aɖɖi/

হাড়; BONE

ডামাগুর শইললোর আড্ডি গনা জার।

আণ্ডইন

/anɖɔin/

আগুন। মানু দে না ছাড়িআ. রইদ বেটা রাজা মানু করে তাজা।’ বরাক প্রবাদ

‘আগুইন বেটা কুড়িআ

আত পাও আটানি

/at̪ɔ pao aʈani/

কর্মবিমুখ হওয়া।

আতপাও আটাইলে মোরে কিগে খানি দিব?

আত লবা

/at̪ɔ lɔba/

হস্তগত হওয়া।

পাওনা টেকাগুইন আবো আত লইছে না।

আত লাবড়ামি

/at̪ɔ labɔɽাmi/

ছোটখাটো চুরি করার স্বভাব।

ভেখ লইআও তাইর আতলাবড়ামি গেছে না।

আতরি

/at̪ɔri/

সূতিকাগার; আঁতুড় ঘর।

আবো রূপশি পুজা অইসে না, বউ আরি তনে বারইছইন না।

আতশ্

/at̪s/

অত্যন্ত টক।

কড়চা ডেফল অলা আতশ্।

আতাআতি

/at̪aat̪i/

হাতে হাতে যে লড়াই।

সভার মাঝে দুই মনতিরিএ একছুট আতাআতি অই গেছে।

আতানি

/at̪ani/

হাত বুলিয়ে দেওয়া।

মায় আতাই দিলে শইললর জালা (জ্বালা) জুড়াই জাইত।

আতি

/at̪i/

বেতের বুকের অংশ।

আতিগুইন দি কয়টা হরই বানা।

আতিআর

/at̪iar/

শিল্পকর্মের সহায়ক যন্ত্রপাতি।

মেসতইরে তান আতিআর লইআ আইছইন।

আতিমরা

/at̪imɔra/

আধমরা; আধাশুকনো (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে)। বাঁশ, বেত, গাছপালা মরে শুকিয়ে যাওয়া অর্থেই শব্দটির ব্যবহার সর্বাধিক।

বাগু আতিমরা অইলে তুমি কাটি লাও।

আতু

/at̪u/

কুকুরকে ডাকার সংকেত শব্দ।

আতুকি

/at̪uki/

অক্ষম; কোনো যন্ত্রের অভাবে কাজ করতে অক্ষম।

বড়খুকায় আমার গুলাইরানদা নিআ আতুকি বানাইআ থইছে।

আতুর

/at̪ur/

প্রতিবন্ধী; হাত-পা বা চোখের মতো অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গের অভাব হেতু চলৎশক্তিহীন বা কাজে অক্ষম।

না-গ-মাই, আতুর অইআ দুনিআত বাচিআ ফয়দা নাই।

আতে দি চাবা

/at̪e d̪i tʃaba/

পরমুখাপেক্ষী হওয়া।

হারা জমিনবাড়ি উনাইআ এলকু তাইন জামাইর আতে দি চাই থাকইন।

আতো

/at̪o/

নিকটে।

‘বাঘর আতো ছাগল বাগি।’

আতো লবা

/at̪o lɔba/

গণ্য করা।

টেকা না থাকলে কেউ আইজকাইল আতো লয় না।

আত্তির পাড়া পড়া

/at̪t̪irɔ paɽা pɽা/

বড়লোকের আগমন হওয়া।

আউকা আউকা, এমেলে সাএব, আইজ মোর বাড়িত আত্তির পাড়া পড়ছে।

আদত্₁

/ad̪t̪₁/

আসল; শুরুতে যেমন ছিল সে রকম।

ভুবন ঠাউকরর আদত পুথি আমরার ঠাকুরদায় পাইছইন।

আদল

/ad̪ɔl/

দিনের চারভাগের একভাগ সময়; প্রহর; বেশ কিছু সময়।

এক আদল ডটিআ এলকু কামো আইছত নি?

আদা পড়া হিখানি

/ad̪a pɔɽা ɦikʰani/

অবাঞ্ছিত উপদেশ দেওয়া বা যুক্তিবুদ্ধি দেওয়া।

হর ইন তনে, দাদারে আর আদা পড়া হিখাইস না।

আদাজামুইর

/ad̪azamuir/

আদা’র গন্ধযুক্ত রসাল লেবু বিশেষ। গোলাকার বেশ বড় আকারের লেবু। লেবুর জগতে এমন সুগন্ধযুক্ত ও রসগর্ভ লেবু দ্বিতীয়টি নেই। গন্ধ ও রসের জন্য একে রসরাজ লেবু বলতে পারি। ভেষজগুণে ভরা এটি খুবই উপকারী ও রুচিকর।

আদার

/ad̪ar/

পাখির খাদ্য।

ময়নাগুরে আদার দেও।

আদালি

/ad̪ali/

নদীতীরের ঢালু স্থান বিশেষ; ঝুপঝাড়পূর্ণ নদীর পাড়।

আদিলকা

/ad̪ilɔka/

আদিখ্যেতা করা যার অভ্যাস।

‘আদিলকার ঘরো অইছে পুআ / নাম তার আছাভুআ।’

আদুভুদু

/ad̪ubʱud̪u/

মোটাবুদ্ধি; ভোঁতাবুদ্ধি; বোকা।

মোর বড়মাই বড় আদুভুদু, কুনতা বুধ পাইন না।

আদুমচুদুম

/ad̪umɔtʃud̪um/

নিরেট বোকা; যার সাধারণ বুদ্ধিরও অভাব।

ই আদুমচুদুম ছুগরাইগুরে লইআ গিআ মরতায় নি!

আধ

/ad̪ʱ/

আধা; দুভাগের একভাগ।

তাইন আধখান সাফ আধখান কুচিআ।

আধখানি বুদধি

/ad̪ʱɔkʰani bud̪ɔd̪ʱi/

অল্পবুদ্ধি।

হকল বেটিনতর আধখানি বুদ্ধি নায়।

আধাখেচরা

/ad̪ʱakʰetʃɔra/

অসমাপ্ত। কেবল অর্ধসমাপ্ত নয়, বিশৃঙ্খলতার ভাব থাকলে এই শব্দটির ব্যবহার সঠিক হবে।

আধাছাদা

/ad̪ʱatʃʰad̪a/

যা সম্পূর্ণ করা হয়নি; অসমাপ্ত।

কুনু কামউ আধাছাদা করিআ রাখিঅ না।

আনজা

/anɔza/

আঁটি; দুই হাতে যতটুকু বা যে পরিমাণ খড় প্রভৃতির গোছা ধরা যায়; দুইহাতে ধরে বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো খড় প্রভৃতির বোঝা।

উত্তর বাড়ি তনে ক আজা খের আনছত? চুংগাপুড়া কুলাইব নি?

আনজানি

/anɔzani/

বেগুন কচু মাছ প্রভৃতি ফালি ফালি করে কাটা।

অমা, কচু আনজিআ বড়া বানাইও।

আনজাবলি

/anɔzabɔli/

ভাঁজ করে গুটিয়ে আঁটি বানানো হয়েছে এমন।

‘কান থাকি আনছইন / ছাত্রির এক কুরা, / আনজাবলি পাত্তা দিআ / একসারা মুরা।’

আনজি

/anɔzi/

হুকো প্রভৃতি বেড়াতে লটকে রাখার জন্য বড় বড়শির মতো আঁকশি।

উক্খার আনজিগু ভাংগি গেছে।

আনডি

/anɔɖi/

কেন্দ্র; উৎপত্তিস্থান; ভাণ্ডার।

মউর আনডিত গিআ মউ ভাংগিআ আনছি।

আনডু

/anɔɖu/

লোহার তৈরি হাতি বেঁধে রাখার শেকল বিশেষ। তীক্ষ্ণ অঙ্কুশযুক্ত এই বিশেষ আকৃতির শেকল (অনেকটা প্রথম বন্ধনীর মতো) দিয়ে হাতির পা জড়িয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা হয়। বাঁধার অংশ নারিকেলের বড় ও মজবুত রশি। টানাটানি করলেই শেকলের অঙ্কুশ পায়ে বিঁধে যায়।

আনতু

/anɔt̪u/

লোহার তৈরি হাতি বেঁধে রাখার শেকল বিশেষ।

তীক্ষ্ণ অঙ্কুশযুক্ত এই বিশেষ আকৃতির শেকল (অনেকটা প্রথম বন্ধনীর মতো) দিয়ে হাতির পা জড়িয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা হয়। বাঁধার অংশ নারিকেলের বড় ও মজবুত রশি। টানাটানি করলেই শেকলের অঙ্কুশ পায়ে বিঁধে যায়।

আনদু

/anɔd̪u/

না জেনে।

তাইর নামে আনদু বদনাম করিস না।

আনদুদুনদু

/anɔd̪ud̪unɔd̪u/

অল্পবুদ্ধি ও সরল।

অউ আনদুদুনদু মানুগু লইআ কত বছর ধরি সংসার করিআর।

আনদুফানদু

/anɔd̪upʰanɔd̪u/

না বুঝে না জেনে।

বিচারো গিআ আনদুফানদু মাতিলেউ অয় না, হকলতা শুনিআ-বুঝিআ মাতা লাগে।

আনমান

/anɔman/

অনুরূপ; সদৃশ।

‘আক্কল আনমান সাজা।’

আনমিলার চানদ্

/anɔmilarɔ tʃand̪/

কদাচিৎ দেখা যায় এমন।

‘শলইর দাম অইছে / লগে বিড়ির বানধ / মাছ এক জিনিশ / আনমিলার চান্দ্।’

আনর

/anɔr/

হিতকর অম্লমধুর ফল বিশেষ; ডালিম। ভারতের সর্বত্র ‘আনর’ পাওয়া যায়। গাছ ১০/১৫ ফুট উঁচু। ছাল ধূসরবর্ণ ও কাণ্ডসার হলদে। ফল মধুর প্রধান হলেও সামান্য অম্ল। টুসটুসে রক্তকাচের মতো বিচিসার। উপকারী ও উপাদেয় ফল। ভিটামিন বি, সি পাওয়া যায়। মেধা ও বলকারক ভেষজ। ছাল ফুল পাতা সবই আয়ুর্বেদিক ঔষধরূপে ব্যবহৃত হয়।

আনা চিনে চিন

/ana tʃine tʃin/

পরিচয় লাভের বিশেষ চিহ্ন বা লক্ষণ।

‘নিচার বুড়ায় বিচার করে / পেছর মাতো ডাট, / আনাচিনে চিন তার / কানধো থাকে শাট।’

আনা₁

/ana₁/

বিনা; ছাড়া।

‘আনাফুলে কদু / আনা মিটঠায় মধু।’

আনানাশ

/ananas/

অম্লমধুর স্বাদযুক্ত একপ্রকার রসাল ফল; আনারস।

রিআংগর জুমো ইবার অলা বানডা বানডা আনানাশ অইছে।

আনাম

/anam/

সম্পূর্ণ; ক্ষয়প্রাপ্ত বা ব্যয় হয়নি এমন।

ভাত-ছালন সবতাউ আনাম রইছে।

আনি

/ani/

হাসি।

তাইর আনি হুনিআ মুই ঘরো হুমাইছি।

আনু

/anu/

প্রাপ্ত বয়স্ক।

পুড়ি শিআন অই জার জামাই-উমাই চাইও। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে ‘সিআন’ মানে পেয়েছি ‘সজ্ঞান’ বা ‘চতুর’। প্রাপ্তবয়স্ক না হলে সজ্ঞান বা পরিণত হয় না। সেই অর্থপ্রাধান্যে অর্থসংক্রম ঘটে বরাক উপত্যকায় এর অন্যতম মানে দাঁড়িয়েছে ‘প্রাপ্তবয়স্ক’।

আনুআ

/anua/

জলাভূমি; জলবদ্ধ বিল বা সরোবর; প্রাকৃতিক জলাশয়।

ছইলর ডরে কেও আনুআত লামে না।

আনুক্কা

/anukka/

সাধারণ নয় এমন; বিশেষ।

তাইন আনুক্কা পানচাইত অইছইন নি জে গাউর কথা হুনতা না।

আন্জা

/anza/

আঁটি; দুই হাতে যতটুকু বা যে পরিমাণ খড় প্রভৃতির গোছা ধরা যায়; দুইহাতে ধরে বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো খড় প্রভৃতির বোঝা।

উত্রর বাড়ি তনে ক আন্জা খের আনছত? চুংগাপুড়া কুলাইব নি?

আন্জাবলি

/anzabɔli/

ভাঁজ করে গুটিয়ে আঁটি বানানো হয়েছে এমন।

‘কান থাকি আনছইন ছাত্তির এক কুরা, আনজাবলি পাত্তা দিআ একসারা মুরা।’ আনন্দ

আন্জি

/anzi/

হুকো প্রভৃতি বেড়াতে লটকে রাখার জন্য বড় বড়শির মতো আঁকশি।

উক্খার আনজিগু ভাংগি গেছে।

আন্ডি

/anɖi/

কেন্দ্র; উৎপত্তিস্থান; ভাণ্ডার। বিশ্বপ্রকাশ] > হি. অভৈল > বাং আভিল।

মউর আনডিত গিআ মউ ভাংগিআ আনছি।

আন্তাজি

/ant̪azi/

মিছেমিছি; অকারণে; না জেনে।

অটো এখান লইআ আনতাজি অতগু টেকা হি পানিত ফালাইল।

আন্মান্

/anman/

অনুরূপ ; সদৃশ।

'আক্কল আনমান সাজা।'—বরাক প্রবাদ

আপজুস

/apɔzus/

জলে পাক দেওয়া চিনির ঘন রস।

আপনার গিআ

/apɔnarɔ ɡia/

কথা বা প্রসঙ্গ অবতারণায় ব্যবহৃত অর্থহীন পদগুচ্ছ; মুদ্রাদোষ।

আপসে

/apɔse/

নিজে নিজে; নিজের ইচ্ছায়।

পালখারা ডেকিগু বাদরদিন আসে ঘর লইছে।

আপোনে

/apone/

স্বয়ং; নিজে।

‘আপোনে মনশা মাই কাড়ারো ধরিআ কিরে হয় হয় হইআ।’

আফদ ফালানি

/apʰɔd̪ɔ pʰalani/

দায়সারাভাবে সম্পন্ন করা।

ঠিকাদারে ইতা কাম করছেনি খালি আফদ ফালাইছে।

আফরকে

/apʰɔrɔke/

কারো অসাক্ষাতে; গোপনে।

তুমার আফরকে তাইন তুমার বদনাম গাইন।

আফানজাল

/apʰanɔzal/

সাংসারিক ঝামেলা।

এলকু আফানজানে বেরিলাইছে, বাড়ি তনে একতিল বারইতাম পারি না।

আফানজালি

/apʰanɔzali/

ঝামেলা সৃষ্টিকারী।

পুআইনগুইন বড় আফানজালি, অতার লাগি শতো পাই না।

আফানি পিঠা

/apʰani piʈʰa/

বিরন চালের গুড়ো দিয়ে তৈরি হালকা পিঠা বিশেষ।

আফাল

/apʰal/

বড় রকমের ঢেউ; জলোচ্ছ্বাস।

জেলা আফাল উঠের নাও ছাড়িলে বিফদ আইব।

আফ্ আফ্

/apʰ apʰ/

প্রচণ্ড ইচ্ছা।

খাইবার লাগি অত আফ আফ ভালা নায়।

আব

/ab/

আয়না; কাচ।

আবড়াজাবড়া

/abɔɽাzabɽা/

বাজে ও অপ্রয়োজনীয় বস্তু সামগ্রী।

আবড়াজাবড়া ইতা দি ঘর বরাইআ লাভ নাই।

আবা

/aba/

আগমন; আসা।

তার আবার বার চাইলে আবা অইত নায়।

আবাদেছাবাদে

/abad̪etʃʰabad̪e/

মিথ্যা জড়ানো; কোনো কাজের নয় এমন।

হর্, মোরটাইন আবাদেছাবাদে গফ করিস না।

আবু

/abu/

বুদ্ধি বা বোধ নেই এমন।

তাইন জেমন আবু রইছইন দুনিআর কুনতা টের পাইন না।

আবুদি

/abud̪i/

যে মেয়ে বুদ্ধিমতী নয়।

ই আবুদি ইগুরে লইআ বড় বিফদ, তাইর নিজর বাদাভালা বুঝে না।

আবুলি

/abuli/

প্রিয় কথা; প্রশংসার কথা; মিষ্টকথা।

'গুআ মুখো শুআবুলি।' — বপ্র.

আবো

/abo/

এখনও; বর্তমান সময় পর্যন্ত।

আবো তুমরার চুংগাপুড়া হেশ অইছে নানি?

আব্রা

/abra/

যে কথা বলতে পারে না; বাকশক্তিহীন।

আম-আমানি

/amɔ-amani/

জলপ্রবাহের আওয়াজ; জলস্ফীতির বা জলের তোড়ের ধ্বনি; জলের বেগের প্রচণ্ডতা।

‘মূল ছড়াত (= ছোট নদী) নাই পানি, / ফেউআ (= শাখা) ছড়াত আমআমানি।’

আমটা

/amɔʈa/

টাটকা নয় এমন; প্রকৃত স্বাদ নষ্ট হয়ে গেছে এমন।

আমটা উরি ইগুইন ফালা, খাবা জাইত নায়।

আমটামুখি

/amɔʈamukʰi/

যে নারী সবসময় মুখ ভার করে থাকে।

আমটামুখি বেটিনতরে আমি দুই চউকে দেখতাম পারি না।

আমদা

/amɔd̪a/

প্রচুর।

বাংলাদেশো মাছ এখেরে আমদা, জতো খাইতায় পার।

আমনা

/amɔna/

প্রকৃতির খেয়ালে জন্মেছে এমন; নিচু জাতের [উদ্ভিদ]।

‘কমিন্দর গানদা কথা / আমনা কচুর দিঘল লতা।’

আমনা কচু

/amɔna kɔtʃu/

কচু বিশেষ। একপ্রকার কচু। পথেঘাটে বিস্তর গজায়। এর লতা ও ফুটকুরি (= ফুল) আনাজ রূপে গরিবের ঘরে ঘরে সমাদৃত।

আমবুরুস

/amɔburus/

একপ্রকার ঘনসবুজ ভেষজ লতা। বেশ বড় আকারের নরম তিক্ত স্বাদ বিশিষ্ট লতা। আম প্রভৃতি গাছকে আশ্রয় করে বাঁচে। ক্ষুদ্র পুরু পাতা। এই লতাটি ভিজিয়ে জল খেলে বহুমূত্র রোগের উপকার হয়।

আমরইল

/amɔrɔil/

আমরুল শাক। অম্লষায় ও মধুর স্বাদযুক্ত। সরু লতানে শাকজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত পোড়ো জমির ও বাড়ির আনাচে কানাচে দেখা যায়। ৩/৪ ইঞ্চি সুতোর মতো সরু ডাঁটার মাথায় তিনটি পাতা হয়; স্বাদে টক, ডাঁটার গোড়া থেকে ফুল বেরোয়, পাঁপড়ির রং পালা হলদে, ফল আকারে যবের মতো, মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বীজ থাকে।

আমানু

/amanu/

ইতর শ্রেণীর লোক।

‘আমানু মানু অইবা, আঘাট ঘাট অইব।’

আয়

/aj/

যা আসে; রোজগার।

বা কামর আয়ে ঘর চলেনি বা?

আয় পাবা

/aj paba/

কোনো কাজে সহজতা আসা; কোনো কাজে সাবলীলভাবে এগিয়ে যাওয়া।

না বা, আমি ভিজা মাটি কাটাত আয় পাইআর না।

আর

/ar/

গলার অলংকার বিশেষ; Necklace.

‘হাইর টেকায় ভাইর নাম, আর গড়াইছি নাইঅর জাম।’

আরখ

/arɔkʰ/

আর এক।

আরক বাড়িত গেলেউ তোমার লুটা ভরি জাইব।

আরখতা

/arɔkʰɔt̪a/

অন্য এক বস্তু।

আইজ বাজার তনে আরখতা আনছি।

আরঘা

/arɔɡʱa/

উপচার দিয়ে বরণ করা; শ্রদ্ধার সঙ্গে বরণ করা।

‘হড়িএ আঘিলা জামাই লাম্বা জুকাড় দিয়া।’

আরতা

/arɔt̪a/

অন্য জিনিস, অন্যান্য বস্তু; অন্যান্য বিষয়।

‘একতা আনে জদি / আরতা’র টান, / গুআ আনি দেখে কিতা / ফুড়াইগেছে পান।’

আরা₁

/ara₁/

পরাজিত হওয়া।

আজকুর লাড়াইত কার বাংড়া আরিব কআ জার না।

আরাকশি

/arakɔsi/

যারা করাত দিয়ে গাছ চিরে তক্তা ইত্যাদি তৈরি করে; করাতি।

আরি₂

/ari₂/

প্রতিবেশী; পাড়ার লোক।

আরিপরি

/aripɔri/

প্রতিবেশী।

আরিপরির লগে কাজিআপশাদ করিও না, ডাকর কুটুম তারাউ।

আরু

/aru/

বুদ্ধি বা বোধ নেই এমন।

তাইন জেমন আবু রইছইন দুনিআর কুনতা টের

আরো কিগু

/aro kiɡu/

গভীর ঘুমে অচেতন হওয়া।

ভরাপেটে ফইলেউ হে নাক ডাকায়।

আরোআল

/aroal/

রক্ষণাবেক্ষণ করে যে; তত্ত্বাবধায়ক; Caretaker.

পুননা রাজবাড়ির আরোআল নাই-গতিকে ভাংগি ভাংগি পড়ের।

আরোআলি

/aroali/

দেখাশোনার দায়িত্ব; তত্ত্বাবধায়কের কাজ।

বিনপইসায় আরোআলি কেও করের না।

আর্ঘা

/arɡʱa/

উপচার দিয়ে বরণ করা; শ্রদ্ধার সঙ্গে বরণ করা। থেকে ‘শ্রদ্ধার সঙ্গে বরণ করা’ অর্থে দাঁড়িয়েছে। এবং এখানে এটি শুধু ক্রিয়াপদ রূপেই ব্যবহৃত হচ্ছে।

‘হড়িএ আর্ঘিলা জামাই লাম্বা জুকাড় দিয়া।’ — ব. গীত

আর্তা

/art̪a/

অন্য জিনিস, অন্যান্য বস্তু; অন্যান্য বিষয়।

‘একতা আনে জদি আরতা'র টান, গুআ আনি দেখে কিতা ফুড়াইগেছে পান।’ —আনন্দ

আল

/al/

লাঙল ইশ জোয়াল ইত্যাদি চাষের সরঞ্জাম সহ চাষ-সক্ষম একজোড়া বলদ বা একটি মহিষ।

পতাবালা আমরা আল লইআ বনদো জাই।

আলং

/alŋ/

শামিয়ানা; CANOPY। কাপড়ের তৈরি অস্থায়ী ছাদ বিশেষ। বিভিন্ন ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাড়ির উঠানে বা মাঠে কাপড়ের ছাদ বা শামিয়ানা টাঙিয়ে রোদ-বৃষ্টি নিবারণ করা হয়।

গিআ দেখি অরিকিরতনোর আলং টাংগানি অই গেছে।

আলদ

/alɔd̪/

একপ্রকার বিষাক্ত সাপ। কালাজ জাতীয় সাপ। গায়ের রং নীলচে কালো, সাদা রেখা আছে। নিশাচর। ফণা আছে।

আলদা

/alɔd̪a/

গোরু-মহিষাদি গৃহপালিত পশুর জিহ্বার ক্ষত; ULCER IN TONGUE.

মোর দামা আলদার লাগি ঘা খাইত পারে না।

আলবাওআ/চআ

/alɔbaoa/tʃɔa/

হাল চাষ করা।

রইদ কড়া আইলে আমরা আল বাই না।

আলর নায় বিচরঅ নায়

/alɔrɔ naj bitʃɔrɔɔ naj/

কোনো কাজের নয় এমন।

কামপড়া কুনতা না-হিখিআ হে এলকু আলর নয় বিচরঅ নায়।

আলশি

/alɔsi/

অলসতা; তন্দ্রাভাব।

বুড়া অইলে শইললো আলশি এ বাদা বানধে।

আলা₃

/ala₃/

যুক্ত, কর্তা ও বৃত্তি অর্থে শব্দের উত্তর যুক্ত হয়।

দই-আলা > দইআলা

আলামত

/alamɔt̪/

লক্ষণ; পূর্বাভাস।

‘আলামতে কিআমত্।’

আলি₁

/ali₁/

স্ত্রীলিঙ্গ গঠনে এর প্রয়োগ হয়।

ঘর আলা পুং > ঘর আলি স্ত্রীং

আলিআ

/alia/

শ্রমবিমুখ।

আলিআর উফরে পাটাভার।

আলিআর উফরে পাটাভার

/aliarɔ upʰɔre paʈabʱar/

সামান্য শ্রমেই যে ক্লান্ত তার ওপর আবার অতিরিক্ত দায়িত্ব।

আলিআর উফরে পাটাভার দিলে কাম আউগাইব কিলা?

আলিমর ঘরো জালিম

/alimɔrɔ ɡʱɔro zalim/

ধর্মপ্রাণ সৎলোকের ঘরে দুষ্ট সন্তান।

বাফ মানে না, দেয়দেপতা মানে না, ইগু দেখি অলিমর ঘরো জালিম।

আলুআ

/alua/

হাল চাষ করে যে; চাষী।

‘আলুআয় আল বায় / জালুআয় জাল।’

আলেক

/alek/

কিছু গ্রহণে যত্ন বা আনন্দ।

আল্লেক

/allek/

কিছু গ্রহণে যত্ন বা আনন্দ।

আশ

/as/

হাঁস।

কাচা রুআত একপাল আশ পড়ছইন।

আশইট

/asɔiʈ/

৬৮ সংখ্যা বা সংখ্যক।

আশপরি

/asɔpɔri/

রূপবতী।

আশপরি বউ পাইআ আমরারে ভুলি গেসত।

আশপাতাল

/asɔpat̪al/

সরকারি চিকিৎসালয়।

আবো গাউদেশো আশপাতাল নাই।

আশ্টো

/asʈo/

৮ সংখ্যা বা সংখ্যক।

‘আশটো পাও তার শুললো আটু / জাল বাইতে গেল টাটু / হুকনাত ফালইআ জাল / গাছো উঠি উবা ফাল।’ [= মাকড়শা]

আসরা

/asɔra/

উচ্চ ফলনশীল উৎকৃষ্ট শালিধান। সোনালি রঙের চিকন লম্বাটে ধান। সাধারণত নিচু বা জলা জমিতে চাষ করা হয়। বহুপ্রকারের আসরা ধান রয়েছে। যেমন, সুনা আসরা, হরুলাকি, বড়লাকি, পাড়ই, আমন, বাদাল, বুমবাদাল ইত্যাদি।

আসলা

/asɔla/

মহিষ হালের গলদণ্ড। মহিষের লাঙলে এটি ব্যবহৃত হয়। মহিষের কাঁধে যে জোয়াল থাকে তারই সঙ্গে দড়ি বা বেত দিয়ে বেঁধে গলায় ঝুলানো হয় এই ‘আসলা’। ইংরেজি V এর মতো দেখতে। কাঠের তৈরি। কাঁধ থেকে জোয়াল আলগা না হওয়ার জন্যই এটির ব্যবহার।

আস্রা

/asra/

উচ্চ ফলনশীল উৎকৃষ্ট শালিধান।

সোনালি রঙের চিকন লম্বাটে ধান। এটি সাধারণত নিচু বা জলা জমিতে চাষ করা হয়। বহুপ্রকারের আসরা ধান রয়েছে। যেমন, সুনা আসরা, হরুলাকি, বড়লাকি, পাড়ই, আমন, বাদাল, বুমবাদাল ইত্যাদি।