ত
ত
/t̪/খাওয়ার পর পাত্রে যা অবশিষ্ট থাকে; এঁটো।
বাব্নর উছিত জেছাখানো ফালাইস না।
তই তই
/t̪ɔi t̪ɔi/হাঁসকে বা হাঁসের ছানাকে ডাকার সংকেত।
তকি
/t̪ɔki/মুসলমানদের ব্যবহৃত ছোট টুপি বিশেষ।
মুই খালি নামাজর বালা তকি লাগাই।
তখইল
/t̪ɔkʰɔil/জাল তৈরির স্কেল।
তখ্তা
/t̪ɔkʰt̪a/পাতলা প্রশস্ত চেরা কাঠের ফলক।
মইরচা হুনদির ন ইনচি তখতা লাগব।
ততা
/t̪ɔt̪a/পাতলা প্রশস্ত চেরা কাঠের ফলক।
মইরচা হুনদির ন'ইনচি তখতা লাগব।
তদোভদো
/t̪ɔd̪obʱɔd̪o/চালাক-চতুর নয় এমন।
‘মাইঝলা এইন তদোভদো / দুই হরুতা উরো / কইলা, কাইল খাইবায় বাবা হকল / ঘুমাও গিআ ঘরো।'
তন
/t̪ɔn/শরীর।
‘তনে জানে মনর খবর।' — বরাক প্রবাদ।
তনাই
/t̪ɔnai/শরীর; যৌবনোচিত দৈহিক বল।
আগর তনাই নাই, নাইলে ইতা কামো কুনু মানু ডাকিছি না।
তনাই পড়া
/t̪ɔnai pɽা/বার্ধক্যজনিত শরীর দুর্বল হওয়া।
নিজর তনাই পড়ি গেলে কেও ফিরিআ চায় না।
তনে
/t̪ɔne/থেকে; হতে; চেয়ে।
‘বেটা তনে বেটার গু ভারি।' — বরাক প্রবাদ।
তন্
/t̪n/শরীর।
'তনে জানে মনর খবর।' — বরাক প্রবাদ। দ্র. তনাই। তন<sub>্য</sub> tɔn
তফন
/t̪ɔpʰɔn/পুরুষদের চিত্রিত রঙিন পরিধেয় বস্ত্র; লুঙ্গি।
এলকু বউতে তফন পিনদইন।
তফর
/t̪ɔpʰɔr/গোরুর গু; গোবর।
মহিষের গু’কেও বরাক বাংলায় গোবর বলা হয়। >> বাং গোবর অঘোষীভবনে ববাং গোফর।
তফাই
/t̪ɔpʰai/ধ্বংস; তছনছ।
বয়ারে মোর মিআরউরার বেরগুর ভাংগিআ একেরে তফাই।
তফাই করা
/t̪ɔpʰai kɔra/বিনাশ করা; লুঠপাট করা।
তফিক
/t̪ɔpʰik/যোগ্যতা; সম্বল।
এক বড় কামো লাগছি, আল্লা মোরে তফিক দেও!
তবল
/t̪ɔbɔl/কুঠার জাতীয় ছেদনাস্ত্র বিশেষ।
আসলে এটি কুঠারই। সাধারণ কুঠারের চেয়ে ভারী। গড়ন চেপ্টা ধরনের।
তবিল
/t̪ɔbil/পুঁজি; অর্থভাণ্ডার।
তবিল না থাকলে বেপারো লাগমু কিলা?
তমময়
/t̪ɔmɔmj/পাগলামি; চমকে দেওয়ার মতো কাজকর্ম; উচ্ছ্বসিত হয়ে চারদিক মাতিয়ে বেড়ান।
মরতো করি মনলয় হে তমময় করি লাইছে।
তরখ
/t̪ɔrɔkʰ/বিদ্যুৎ; বিদ্যুৎ চমকানো।
হাগ কালা করছে আর টনটনি তরখ দের।
তরতাজা
/t̪ɔrɔt̪aza/টাটকা; সরস; সজীব।
নিজে মিআর করলে শাগ-উগ তরতাজা খাবা যায়।
তরফড়
/t̪ɔrɔpʰɽ/শীঘ্র।
তরফড় মুশলাটাইন বানা।
তরফড়ি
/t̪ɔrɔpʰɽি/কোনো কাজ বুদ্ধির সঙ্গে দ্রুত সুসম্পন্ন করে এমন।
দলানোর কামো ভালা মেসতইরর তরফড়ি জুগালি লাগে।
তরষ্ট্
/t̪ɔrsʈ/শীঘ্র।
তরফড় মুশলাটাইন বানা।
তলই
/t̪ɔlɔi/শস্যাদি রোদে শুকানোর জন্য ব্যবহৃত চাটাই।
‘তলইত ধান থাকলে চড়ার অভাব অয় না।' — বরাক প্রবাদ।
তলঘুমানি
/t̪ɔlɔɡʱumani/মিতভাষী; মনের কথা যে প্রকাশ করে না।
তলঘুমানি বেটিনতর মুরর কথা পাইতায় নায়।
তলপ
/t̪ɔlɔp/সাপ্তাহিক বেতন; মজুরি।
তলুয়া
/t̪ɔlujা/কারো অধীনে থাকে এমন।
মুই তান তলুআ নি তাইন জেতা কইবা অতা হুনতাম।
তলে
/t̪ɔle/অধীনে।
ই বাবুর তলে কাম করতাম নায়।
তলে আত দি রআ
/t̪ɔle at̪ɔ d̪i rɔa/মন জুগিয়ে চলা।
চাকরিআন বউর তলে আত দি রই।
তলে তলে বাটি আটানি
/t̪ɔle t̪ɔle baʈi aʈani/গোপনে কুপরামর্শ দেওয়া; ষড়যন্ত্র করা।
তাইনতাইন তলে তলে বাটি আটাইত্রা, আমরা হকলতাউ টের পাই।
তলে তলে বান কাটা
/t̪ɔle t̪ɔle banɔ kaʈa/গোপনে সর্বনাশ করা।
তাইন মুখে মিটঠা সাধু বাকিন্ তলে তলে বান কাটইন।
তলে দি ধুমা দেবা
/t̪ɔle d̪i d̪ʱuma d̪eba/সুখের আয়োজন করা। [ব্যাঙ্গার্থে]
জাও, বাফর বাড়িত গেলে একেরে চাংগো তুলি তলে দি ধুমা দিবা।
তলেতলে
/t̪ɔlet̪ɔle/লুকিয়ে লুকিয়ে; গোপনে।
তাই তলেতলে পিরিত করে।
তলেতলে জড় কাটা
/t̪ɔlet̪ɔle zɔɽ kaʈa/দ্র. তলেতলে বান কাটা।
তলেতলৈ
/t̪ɔlet̪ɔloi/লুকিয়ে লুকিয়ে; গোপনে।
তাই তলেতলে পিরিত করে। তলেতলে জড় কাটা — বাগধা. ক্রি. দ্র. তলেতলে বান কাটা।
তশু
/t̪ɔsu/আজ থেকে পূর্বে বা পরবর্তী তৃতীয় দিন। গত হলে পরশুর আগের দিন আর আগামী হলে পরশুর পরের দিন।
বুবাই তশশু আইলা।
তশ্শু
/t̪ɔssu/আজ থেকে পূর্বে বা পরবর্তী তৃতীয় দিন।
গত হলে পরশুর আগের দিন আর আগামী হলে পরশুর পরের দিন।
তসলা
/t̪ɔsɔla/পিতল বা এলুমিনিয়ামের হাঁড়ি।
জারমনির তসলাগু মানজিআ পইল দিস।
তস্লা
/t̪ɔsla/পিতল বা এলুমিনিয়ামের হাঁড়ি।
জারমনির তসলাগু মানজিআ পইল দিস।
তা
/t̪a/স্বার্থে।
কিতা আনছ? (= কী এনেছ?)
তাই
/t̪ai/সে; She [প্রথম পুরুষ একবচন স্ত্রীলিঙ্গ]।
খবর হুনিআ তাই দউড়িআ জারি।
তাইন
/t̪ain/স্বামী।
মোর তাইন আবো আইছইন না।
তাইনতাইন
/t̪ainɔt̪ain/তাঁহারা।
তাইন তাইন খালি গেলে অইবনি তুমারতানরে লগে নেবা লাগব।
তাইশ
/t̪ais/মানসিক অস্থিরতা; হাঁসফাঁস; শারীরিক কাতরতা।
শইললো তাইশ করের, বাতাশ দেও।
তাউক
/t̪auk/ক্রোধ; দেমাক।
তাউক দেখানি
/t̪aukɔ d̪ekʰani/রাগ দেখানো; বড়াই করা; তড়পানো।
তুইন আমার লগে তাউক দেখাইস না, আবো বুড়া-আডডির লগে পারতে নায়।
তাও
/t̪ao/কাগজ বা কাপড়ের বিন্যাস; এক ফালি।
২৪ তাও কাগজ।
তাও দেবা
/t̪ao d̪eba/গুড় প্রস্তুত করার জন্য ইক্ষুরস জ্বাল দেওয়া।
হবাড়ির সুনাকা'য় (= সোনাকাকা) বিআন তনে তাও দিত্রা।
তাও ধরা
/t̪ao d̪ʱɔra/প্রয়োজন হওয়া; কাজের সময় হওয়া।
গুলায় মানর হাললত্ নাই তুমার এলকু কুটুমআলার তাও ধরছে।
তাও লাগা
/t̪ao laɡa/উপযুক্ত সময় উপস্থিত হওয়া।
ভাদোমাশ, মেঘ দের, এলকু খেতোর তাও লাগছে জাইমু কিলা?
তাওয়া
/t̪aojা/রুটি সেঁকার চেপ্টা কড়াই বিশেষ।
তাওআত রুটি পরোটা বানাইন।
তাওয়ানি
/t̪aojাni/আঘাত করার জন্য অস্ত্রাদি উত্তোলিত করা বা তাক করা।
সাফরে মারার লাগি জেমনে হে হুজা তাওআইছে অমনেই ফাল মারি আইআ কামড়াই দিছে।
তাওু
/t̪aoু/উলটো নয় এমন।
রাগ ইখানোর কুনবাজু তাও?
তাও্
/t̪ao্/কাগজ বা কাপড়ের বিন্যাস; এক ফালি।
২৪ তাও কাগজ।
তাকত
/t̪akɔt̪/শারীরিক বল।
শইললো আগর লাখান তাকত নাই রে বাফ্!
তাক্কত
/t̪akkɔt̪/শারীরিক বল।
শইললো আগর লাখান তাক্কত নাই রে বাফ্!
তাগড়া
/t̪aɡɽা/শক্তিশালী; যৌবনবান বা যৌবনবতী।
তাগড়া বেটা চাও ভিখ করের!
তাগা
/t̪aɡa/কোমরে বাঁধার বড় কালো সূতা।
তোর তাগাত্ এক ঝুনটা তাবিজ কিতারে ছুগরা?
তাগ্ড়া
/t̪aɡɽা/শক্তিশালী; যৌবনবান বা যৌবনবতী।
তাগ্ড়া বেটা চাও ভিখ করের!
তাগ্দা
/t̪aɡd̪a/খাতকের কাছে পাওনা টাকার আদায়ের জন্য পীড়ন; কাজ করানোর জন্য চাপ দেওয়া; কিছু আদায়ের জন্য বারবার অনুরোধ করা।
মাড়োআরিএ বছরো খালি একবার তাগদা দেইন।
তাড়শ
/t̪aɽs/নামকীর্তন ও পদাবলীকীর্তনে ব্যবহৃত মাটির তৈরি মৃদঙ্গ জাতীয় বাদ্যযন্ত্র বিশেষ।
বত্রিশ ঘাটে চামড়ার বাদ্দি বা দুআলি টানানো থাকে। বাদ্দিতে লাগানো থাকে কাঠের গুটি। ডাইনা-বায়া দুদিকেই মাখানো থাকে খিরন বা কালি।
তাড়ু
/t̪aɽু/যা দিয়ে ভাত-ব্যঞ্জন নাড়া হয়; হাতা।
বা দি তাড়ু বানাইআ ভাত রানধি।
তান
/t̪an/তাঁর।
গুলার সময় বড়করতায় তান বাড়িত কতকত মানরে জাগা দিছইন, খাবাইছইন।
তানতান
/t̪anɔt̪an/তাঁদের।
তানতান গরু মুই আর পানে আনতাম নায়।
তাফ
/t̪apʰ/উষ্ণতা।
চইতমাইআ রইদর তাফে জমিন ফাটিআ চিল্লা চিল্লা।
তাবানি
/t̪abani/রোদ বা আগুন পোহানো; ঠান্ডার সময় রোদ বা আগুনের তাপ উপভোগ করা।
দুদু এ চাতলো বইআ রইদ তাবাইত্রা।
তাবিজ
/t̪abiz/মাদুলি। সোনা, রূপা, তামা প্রভৃতি ধাতুনির্মিত মাদুলির ভেতর ভেষজ বা মন্ত্র-অক্ষরিত ভূর্জপত্রাদি রেখে মোম/গালা দিয়ে মুখ বন্ধ করে বাহু, কোমর বা গলাতে লোকে ধারণ করে। উদ্দেশ্য, রোগ, গ্রহ বা প্রেতাদি অমঙ্গলকারীদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া। বরাক উপত্যকায় সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বিশ্বাস রয়েছে।
তাবিজর পুআ
/t̪abizɔrɔ pua/অনেক ওষুধপত্র পূজাতাবিজ করে বড় করা সন্তান।
তাবিজর পুআরে চখুর আউড় করি না।
তামা
/t̪ama/রঙ্গরস; আমোদ-কৌতুক।
বড়র লগে তামা করইন না।
তামাকু
/t̪amaku/চিটাগুড় ও অন্যান্য সুগন্ধ মশলা মেশানো তামাকপাতা।
এক ছিলিম তামাকু দে দ মাই, বড় টক্টক্ করের।
তামাকু পিঠা
/t̪amaku piʈʰa/চালের গুড়ো, গুড়, নারকেল, চিড়ার গুড়ো ইত্যাদি মিশিয়ে বানানো একপ্রকার নাড়ুপিঠে।
তামুক
/t̪amuk/দ্র. তামাকু।
তাল টুকা
/t̪alɔ ʈuka/ঝগড়া বা ষড়যন্ত্রে ইন্ধন যোগানো।
গাউত দুইজনে লাগলেউ হে তাল টুকিব।
তাল মারা
/t̪alɔ mara/উসকানি দেওয়া।
হে তাল মারিআ মোরে মাইর খাবাইছে।
তাল লাগানি
/t̪alɔ laɡani/কারো বিরুদ্ধে কথা বলে অসন্তোষ উৎপাদন করা।
হড়িএ পুআর গেছে তাল লাগাইআ বউরে গাইল খাবায়।
তালইর হরাদ
/t̪alɔirɔ ɦɔrad̪/ধনীলোকের অপ্রয়োজনীয় ব্যয়বহুল অনুষ্ঠান।
টেকা থাকলে তালইর হরাদ, না থাকলে বাফর হরাদউ নাই।
তালা
/t̪ala/যে গোলাকার চামড়া দিয়ে আনন্ধ বাদ্যের মুখবন্ধ করা হয়।
তালাতালি করা
/t̪alat̪ali kɔra/একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের কান ভারি করা; একজনের গোপনকথা অন্যজনের কাছে ফাঁস করা।
তার গেছে ভিত্রর মাত মাতিও না, হে অলা তালাতালি করে।
তালি
/t̪ali/কাপড় জামা বা কাঁথা ছিঁড়ে গেলে যে কাপড়ের টুকরো লাগিয়ে মেরামত করা হয়; তাপি।
মশইরর কানাগু তালি মারো।
তালিম
/t̪alim/নাচ, গান বা নাট্যাভিনয়ের অনুশীলন বা প্রশিক্ষণ।
মউআ গুসটর তালিমো গেছইন।
তাশকা
/t̪asɔka/দেয়াল আলমারি প্রভৃতির তাক বা তক্তা। জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখার জন্য তক্তা বসানো যেকোনো আধারকেই তাশকা বলা হয়।
তাশা
/t̪asa/অতিশয় ঘন; নিরেট।
তাশা বাইন না অইলে চাটি এ কুলায় না।
তাশ্কা
/t̪aska/দেয়াল আলমারি প্রভৃতির তাক বা তক্তা।
জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখার জন্য তক্তা বসানো যেকোনো আধারকেই তাশকা বলা হয়।
তা্
/t̪a্/রকম; প্রকার।
অ মউআ, মোর লগে ক’তা মিঠাই আনবায়। ⇔ ক’তা = কত রকম। অপ্র. — টা; খান।
তি
/t̪i/মসিনা নামক তৈলপ্রদ বীজ বিশেষ; তিসি; Linseed.
বরাক উপত্যকায় প্রচুর তিসির চাষ হয়।
তিআইত্
/t̪iait̪/তৃতীয়পক্ষ; মধ্যস্থতাকারী।
‘তিআতির মাগনা মাত।'
তিক
/t̪ik/জেদ; কিছু করার জন্য প্রবল ঝোঁক।
‘তিকে ভিখ মাংগায়।' — বরাক প্রবাদ।
তিক করা
/t̪ikɔ kɔra/জেদ ধরা।
ভাতর লগে তিক্ করইন না।
তিখইল
/t̪ikʰɔil/জাল বোনার মাকু; জাল বোনার কাজে সূতা চালাবার যন্ত্র।
তিখইলো ফুতা কমি গেছে, ফুতা বেরাও।
তিট
/t̪iʈ/লুব্ধদৃষ্টি; কুনজর।
মুললার গেসতনে টিটর নুনপড়া লইআ আও।
তিড়িংবিড়িং
/t̪iɽিŋbiɽিŋ/লাফালাফি; হেলাদোলা।
নেনায় তিড়িংবিড়িং করি আটের।
তিতকি
/t̪it̪ɔki/তীব্র; কটু।
‘লবণ পড়িআ মুল্লায় ক'র, / দআইএ ধরতো নায় তিকি নজর।'
তিতনি
/t̪it̪ɔni/অতি ক্ষুদ্র।
তিতনি পুঁটি খাবা জায় না।
তিতপুটি
/t̪it̪ɔpuʈi/ছোট আকারের পুঁটিমাছ বিশেষ। দ্র. পুটি।
তিত্কি
/t̪it̪ki/তীব্র; কটু।
'লবণ পড়িআ মুল্লায় ক'র, দআইএ ধরতো নায় তিত্কি নজর।’ আনন্দ।
তিত্নি
/t̪it̪ni/অতি ক্ষুদ্র।
তিতনি পুঁটি খাবা জায় না।
তিথি
/t̪it̪ʰi/বিনুনি; সাপের মতো লম্বা করে বাঁধা চুল।
তাইর চুল গারি আর লামবা, তিথি বলিলে পরির লাখান দেখা জায়।
তিন আংলা ছাগি
/t̪inɔ aŋla tʃʰaɡi/নাবালক ছেলে; অল্পবয়সি ছেলে। দ্র. আংলা।
‘তিন আংলা ছাগি, মাত হুনো তার। / বড় মানর লগে তরকো, মুখো কুথাকার।' — আনন্দ।
তিন কুটায় বাইংগন পাড়া
/t̪inɔ kuʈaj baiŋɡɔnɔ paɽা/একাধিক মাধ্যমে কার্যসিদ্ধি করা।
মাতিআ লাভ নাই, সরকারি টেকাগুইন উগাইছি তিন কুটায় বাইংগন পাড়িআ।
তিন না তেরো
/t̪inɔ na t̪ero/সামান্য লোক।
তিন না তেরো, হে কয় বুড়াইল নাও একলাউ তুলিলাইব।
তিন পাবা আকল
/t̪inɔ paba akɔl/অপরিণত বিচারবুদ্ধি।
‘ছকুড়ি গুলামর তিনপাবা আকল।' — বরাক প্রবাদ।
তিন মুড়িলা
/t̪inɔ muɽিla/বয়সে এবং জ্ঞানে অতিবৃদ্ধ। বৃদ্ধ হতে হতে যখন পিঠের কুঁজ মাথার মতো জেগে ওঠে এবং মাথা হাঁটু নিচে অবনমিত হয় তখনই তাকে বলা হয় ‘তিনমুড়িলা'।
তিন মুড়িলার বুদ্ধি
/t̪inɔ muɽিlarɔ bud̪d̪ʱi/অতি জ্ঞানবৃদ্ধর পরামর্শ ও উপদেশ।
‘তিনমুড়িলার বুদ্ধি লইও, / আর গরাসে গরাসে মাছর মুড়ি খাইও।'
তিনপনচাশ
/t̪inɔpɔnɔtʃas/৫৩ সংখ্যা বা সংখ্যক।
তিনবেংগা
/t̪inɔbeŋɡa/বাঁকা ও কুৎসিত।
তিনবেংগা ডাল।
তিনা
/t̪ina/৩ সংখ্যক।
বরাক উপত্যকায় বিভিন্ন গণনায় 'তিন' এর প্রাচীনতর রূপটি এখনো বজায় আছে। যেমন ডাংগুলি খেলার গণনায় — গাইআ, দুইআ, তিনা, চারা, পান্জা ইত্যাদি।
তির
/t̪ir/আড়কাঠ; beam.
এক ঝাউকরার তিরে শুলো বছর কুলাইছে।
তিরতির
/t̪irɔt̪ir/ক্ষীণ প্রবাহ ব্যঞ্জক; ক্ষীণ জলস্রোতের শব্দ।
গাং হুকাই গেছে, তিরতির পানি জার।
তিরাশ
/t̪iras/জল পানের ইচ্ছা; পিপাসা।
তিরাশে বুক ফাটি জার।
তিরাশি
/t̪irasi/পিপাসা পেয়েছে এমন; তৃষ্ণার্ত।
‘ভুখাশির ভাত আর তিরাশির পানি, / এরে জে দান করে বেহেস্তের নিশানি।'
তিরিতিরি
/t̪irit̪iri/হাঁস-মুরগির ছাওকে ডাকার সংকেত ধ্বনি।
তিরুটি
/t̪iruʈi/প্রমাদ; খুঁত।
তার কামো কুনু তিরুটি নাই।
তিলকই
/t̪ilɔkɔi/গোসাপ; সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী বিশেষ; একরকমের সরীসৃপ। আগে বরাক উপত্যকার জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে ঘড়িয়াল বা গোসাপের মতো আঁশহীন সরীসৃপ দেখা যেত। এরা ফোঁস্ ফোঁস্ করে আওয়াজ করত। এদেরই বলা হত তিলকই। অনেকের ধারণা, এটি ছিল গোসাপের বৃহদাকার প্রজাতি বিশেষ। কারো মতে এটি প্রাগৈতিহাসিক সরীসৃপের বংশধর।
তিলুআ
/t̪ilua/চিনি ও তিল মিশ্রিত গোলাকার মিঠাই বিশেষ।
বরাক উপত্যকায় পৌষপার্বনে তিলুআর ব্যবহার প্রসিদ্ধ।
তিশ
/t̪is/৩০ সংখ্যা বা সংখ্যক।
তি্
/t̪i্/মসিনা নামক তৈলপ্রদ বীজ বিশেষ; তিসি; Linseed.
বরাক উপত্যকায় প্রচুর তিসির চাষ হয়।
তু
/t̪u/ধান প্রভৃতি শস্যের খোসা।
তু কুড়া আলগাইআ থ।
তু দি গু গুরা
/t̪u d̪i ɡu ɡura/কৌশলে লজ্জা বা অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করা।
জততাউ কর তু দি গু গুরিআ রাখা জায় না।
তুইন
/t̪uin/মধ্যম পুরুষ একবচনের অসম্ভ্রমাত্মক রূপ; তুই।
তুক
/t̪uk/থুথু।
জেসাখানো থুক ফালাইও না।
তুকমা
/t̪ukɔma/তিসি জাতীয় বীজ।
তুকমা জলে ভেজালে সাদা ও নরম হয়। চিনি মিশিয়ে খেলে পেট শীতল হয়। তুকমা চতুস্কোণ কাণ্ডযুক্ত রোমশ বর্ষজীবী বীরুৎ। পাতা সরল, বিপরীতভাবে বিন্যস্ত। ডিম্বাকৃতি, ফলকের গোড়া তাম্বুলাকার, কিনারা দস্তুর, রোমশ। নীলাভ ফুলগুলি ছোট ছোট ছত্রমঞ্জরী বা প্যানিকেল পুষ্পবিন্যাসে পাতার কক্ষে থাকে। পুষ্পপত্র আকারে ছোট। ফল গাঢ় বাদামি রঙের নাটলেট। — নলিনী। গাছটি পতিতজমি, টিলা ও ফসলের জমিতে বরাক উপত্যকার সর্বত্র জন্মে। বৈজ্ঞানিক নাম Hyptis Suaveolens Poit.
তুকানি
/t̪ukani/খোঁজা; খুঁজে খুঁজে কুড়ানো।
তাইন কানর দুল তুকাইত্রা।
তুকুমতাকুম
/t̪ukumɔt̪akum/দ্বিধা।
হাছা মাতিতে তুইন তুকুমতাকুম করস কিতা?
তুচতাচ
/t̪utʃɔt̪atʃ/তুচ্ছতাচ্ছিল্য।
তুমি আমরারে অত তুচতাচ কর কিতা?
তুড়ি
/t̪uɽি/বাঁশের ছোট নল; পরিমাপনে ব্যবহৃত বাঁশের চুং। দ্র. পানিতুড়ি।
তুতা পড়ানি
/t̪ut̪a pɔɽাni/তোতাপাখির মতো অতিযত্নে কাউকে কিছু শেখানো; মগজধোলাই করা।
অলা তুতা পড়াইলাম তাইরে, তেবো জজর হে গিআ হকলতা উলটাপালটা কইলি।
তুনানি
/t̪unani/ধমক দেওয়া।
আনতাজি হরুতারে কুদাইও না।
তুব
/t̪ub/রাশি; স্তূপ।
গুপরর তুব।
তুবানি
/t̪ubani/কুড়ানো; খুঁটে খাওয়া।
বেলপই গাছো উঠি মুই ঝাকরাইমু তুমি থুবাইও।
তুম
/t̪um/নিম্নবর্ণের অতি অনুন্নত হিন্দু জাতি বিশেষ।
বরাক উপত্যকার আদি বাঙালিদের অধিকাংশই নিম্নবর্ণের হিন্দু। এখন এরা সকলেই কৃষিজীবী।
তুম পাকানি
/t̪umɔ pakani/দ্র. তুমবা পাকানি।
তুমবা
/t̪umɔba/গণ্ডদেশ; গাল।
তুমবা পাকানি
/t̪umɔba pakani/অভিমান করা; রাগ করা।
তাইরে বাটি ভরি দুদ না দেবায় তুম্বা পাকাইছে।
তুমবুর
/t̪umɔbur/স্তূপ; রাশি।
এক তুমবুর খিচুড়ি।
তুমা ফুলানি
/t̪uma pʰulani/অভিমান করা; রাগ করা।
‘তুম্বা ফুলাই আটে ফিরে / গাউর উফরে হাঠো; / জেতার লাগি বিদেশ গেলো / অতাউ রইল বাটো।' — আনন্দ।
তুমার
/t̪umar/তোমার; মধ্যমপুরুষ একবচনের সাধারণ সম্বন্ধ রূপ।
তুম্বা
/t̪uma/স্ফীত; ফুলে উঠেছে এমন; মাংশল।
তুম্বা তুম্বা গাল।
তুম্বা্
/t̪uma্/স্ফীত; ফুলে উঠেছে এমন; মাংশল।
তুম্বা তুম্বা গাল।
তুয়াকুলি
/t̪ujাkuli/ক্ষীণ আশা নিয়ে; ঈশ্বর ভরসায়।
হিদিন তুআকুলি গেসলাম, গিআউ কাম অই গেছে।
তুরতুর
/t̪urɔt̪ur/শরীরে পোকামাকড় বেয়ে ওঠার অনুভব।
সায়ার ভিতরে কিগু হমাইছে, তুরতুর করের।
তুলমুল
/t̪ulɔmul/সীমা; আদি অন্ত; তলদেশ।
লিল হাগর কুনু তুলমুল নাই।
তুলসিমালা
/t̪ulɔsimala/উৎকৃষ্ট শালি ধান বিশেষ। কালিজিরা ধান থেকেও মিহি ও ঘনকালো ধান। এর মঞ্জরি ১৬ থেকে ২০ ইঞ্চি দীর্ঘ হয়। কালোমণির মতো চকচকে ধান। চালও উজ্জ্বল সাদা। সৌগন্ধ স্বাদুতা ও উপাদেয়তায় প্রায় সকলধানকেই ছাড়িয়ে যাবে। রোগীদের উৎকৃষ্ট পথ্য। ব্রতানুষ্ঠানে পার্বনে খুবই কদর এই চালের। জৈব ও পচন সারই কেবল ব্যবহার করা চলে। ফলন প্রচুর। হাইলাকান্দি জেলায় এর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি।
তুলা
/t̪ula/শুল্ক; কর। পণ্যের শুল্ক বা দোকানের খাজনা।
জে বাজার ডাক রাখে হে-উ তুলা লয়।
তুশা
/t̪usa/একপ্রকার মিষ্টিস্বাদযুক্ত হালুয়া। ময়দা ও চিনি দিয়ে তৈরি এই হালুয়াটি এ অঞ্চলের মুসলমান সমাজেই প্রচলিত। তুশা শিরনির প্রস্তুত প্রণালী এরকম: ময়দা — ১ কিলোগ্রাম, চিনি — ৮০০ গ্রাম, জল — ১১০০ গ্রাম, ডালডা — ৮০০ গ্রাম, কিসমিস — ১০০ গ্রাম, মৌরি — ৫০ গ্রাম, দালচিনি এলাচি — ১০ গ্রাম। জলে চিনি ফেলে গুলে নিতে হবে। গরম মশলা কাপড়ে বেঁধে এই জলে ফেলে আধঘণ্টা যাবৎ জ্বাল দিয়ে হালকা বাদামি রং হলে ‘আপজুস্' তৈরি হল। ডালটাতে সেই ময়দা হালকা আগুনের আঁচে মিশিয়ে নিতে হবে। ভালো করে মিশ্রণটি তৈরি হলে ‘আপজুস' অর্থাৎ চিনিমেশানো জল ঢেলে দেবে। ছেড়ে দেবে কিসমিসও। এরপর খুব করে ঘুঁটে নিলেই মিশ্রণটি ফোলে ওঠবে এবং সুগন্ধ বেরুবে। তখন নামিয়ে নিয়ে গরম গরম পরিবেশন করতে হয়। এই তুশাশিরনি ‘মিলাদ মেহফিল' প্রভৃতি সর্বজনীন অনুষ্ঠান উপলক্ষে বানানো হয়ে থাকে।
তে
/t̪e/এরপর; তবে।
গুলা কমলে তে তুমি জাইতায়।
তেআর
/t̪ear/ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান; পার্বণ।
ঠিকাদারর বাড়িত কাইল বড় তেআর।
তেআললিশ
/t̪ealɔlis/৪৩ সংখ্যা বা সংখ্যক।
তেউ
/t̪eu/তাহলে; তারপর।
দরে বনলে তেউ মাল বেছিমু, নাইলে না।
তেউর
/t̪eur/ঝুড়ি টুকরি ধুচুনি প্রভৃতি বাঁশের তৈরি পাত্র মজবুত করার জন্য আড়াআড়িভাবে যে দুটি বা চারটি বাঁশের শক্ত শলাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ওগুলোকে ‘তেউর' বলে।
পটাংগিত খালি তেউর লাগানি বাকি।
তেখতেখা
/t̪ekʰɔt̪ekʰa/অতিশয় ভেজা; জলীয়।
টেপার জাগা ইখান একেরে তেখতেখা।
তেজিআ
/t̪ezia/চিরহরিৎ বৃক্ষ বিশেষ। মাঝারি উচ্চতার গাছ। তেজপাতার মতো পাতার তেজালো গন্ধ আছে। শক্ত কাঠ। রং লালচে। শক্ত হলেও কাঠ হিসেবে ভালোই। বৈজ্ঞানিক নাম— Cinnamomum Obtusifolium.
তেড়া
/t̪eɽা/বাঁকা; তেড়চা।
ইআন খুটি পইছমেদি তেড়া।
তেড়ামাত
/t̪eɽাmat̪/বাঁকা কথা।
তেড়া মাত হুনলে মোর নাই-কান-তনে রাগ উঠি জায়।
তেড়ামি
/t̪eɽাmi/একগুঁয়েমি।
হই বেটা, হকলতাত তেড়ামি করিস না।
তেড়িবেড়ি
/t̪eɽিbeɽি/বিপরীত আচরণ; উলটাপালটা।
‘তেড়িবেড়ি করিস না তোর পিঠ মোর গলা।' — বরাক প্রবাদ।
তেড়িবেতেড়ি
/t̪eɽিbet̪eɽি/দ্র. তেড়িবেড়ি।
তেতই
/t̪et̪ɔi/তেঁতুল; tamarind.
‘আম ধরে ঝুপা ঝুপা তেতই ধরে বেকা / দেশর বন্ধু বিদেশ গেলে আর নি অইব দেখা।'
তেতলা
/t̪et̪ɔla/সহজে ভাঙা যায় না এমন।
তেতইর ডাল অলা তেতলা।
তেত্লা
/t̪et̪la/সহজে ভাঙা ষায় না এমন।
তেতইর ডাল অলা তেতলা।
তেনতেনা
/t̪enɔt̪ena/ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে এমন।
হাড়িখান একেরে তেনতেনা অই গেছে আর পিন্ধা জাইত নায়।
তেনা
/t̪ena/পুরোনো কাপড়ের ফালি।
কড়াই মুছিবার তেনা ল।
তেনাছেচ্ড়া
/t̪enatʃʰetʃɽা/ছেঁড়া ময়লা কাপড়চোপড় ইত্যাদি।
হরুতার তেনাছেচ্ড়া লইআ নালাত জা গি, ধইআ আইবে।
তেনাছেড়া
/t̪enatʃʰeɽা/ছেঁড়া ময়লা কাপড়চোপড় ইত্যাদি।
হরুতার তেনাছেড়া লইআ নালাত জা গি, ধইআ আইবে।
তেনি
/t̪eni/তাহলে; তাহলেই।
‘মাটিচাটি লাগিআ লেফ অইছে কালা, / উশার এখান থাকতো জদি তেনি রইত ভালা।' — আনন্দ।
তেবো
/t̪ebo/তবু।
অলা গাইল খায় মাইর খায় তেবো তাইর ফুটে না।
তেরচা
/t̪erɔtʃa/বাঁকা; সরল বা সোজা নয় এমন।
বেরর খাফ তেরচা করিস না।
তেরপাল
/t̪erɔpal/জলনিরোধক গম বা আলকাতরা মাখানো মোটা ঘন বুনটের কাপড় বিশেষ; ত্রিপল।
অনুষ্ঠান ও ছাউনিতে খাটানো হয়।
তেরা
/t̪era/নক্ষত্র; Star.
হাগো তেরা ফুটিছে।
তেরাবাততি
/t̪erabat̪ɔt̪i/আতশবাজি বিশেষ; তুবড়ি।
কালি (= কালী) পুজাত তেরা বাত্তি জালাইমু।
তেরাৢ
/t̪eraৢ/বন্য বীরুৎ উদ্ভিদ বিশেষ। বরাক উপত্যকার আঞ্চালক বাং কলার মতো হলেও খুব ছোট ছোট টকস্বাদ বিশিষ্ট মোচাও ধরে। ⇒ তেরাবনো কুড়াপাকখিএ বাদা দিছইন।
তেরেন্ডা
/t̪erenɖa/গুল্ম জাভীয় উদ্ভিদ বিশেষ। কাণ্ড লরম। গাছ পাঁচ থেকে সাত হাত উঁচু হয়ে থাকে। পাতা করতলাকৃতি। একলিঙ্গ ফুলগুলি যৌগিক মঞ্জরীতে বিন্যস্ত। ফল ডিম্বাকৃতি। বিচি এ কটি। গ্রামাঞ্চলে বাড়ির বেড়ার জন্য এ গাছ লাগানো হয়। এই গাছের রস জমিয়ে ছোটরা বুদবুদ ওড়ায়। ভেরেন্ডার বীজের তেল মোম ও সাবান ভৈরিতে ব্যবহাত হয়।
তেল দি মানজা
/t̪elɔ d̪i manɔza/দ্র. তেল মারা।
তেল মারা
/t̪elɔ mara/স্বার্থ আদায়ের জন্য তোষামোদ করা।
তেলচিটকা
/t̪elɔtʃiʈɔka/দ্র. তেলচিটা।
তেলচিটা
/t̪elɔtʃiʈa/তেলের দাগ।
সাবুন দি না ঘশাইলে কড়াইর তেলচিটা জায় না।
তেলচুরা
/t̪elɔtʃura/আড়শোলা; Cockroach। তেলাপোকার শরীর তেলতেলে চিকন বলেই এই নাম।
তেলতেল
/t̪elɔt̪el/তেলমাখা।
ইলিশ খাইআ আতমুখ তেলতেল।
তেলতেল করা
/t̪elɔt̪elɔ kɔra/চটুলতা করা; বেলেল্লাপনা করা।
জুআন ছুগরিনতে তেলতেল করা।
তেলতেল পানিপানি
/t̪elɔt̪elɔ panipani/অতি স্বল্প আয়োজন।
তেলতেলি
/t̪elɔt̪eli/তরল স্বভাবযুক্তা।
ইলা তেলতেলি পুড়িন বনডকো নাই।
তেলানি
/t̪elani/তোষামোদ করা।
তেলাফিআ
/t̪elapʰia/কই জাতীয় মাছ বিশেষ। কই মাছের চেয়ে সামান্য বড়। রং কালচে ময়লা। তৈলাক্ত। খেতে মন্দ নয়।
তেলাল
/t̪elal/তেলযুক্ত; চর্বিযুক্ত।
পদ্দার ইলিশা অলা তেলাল।
তেলেংতেলেং
/t̪eleŋt̪eleŋ/দ্র. তেলতেল।
তেলেচুংগায় জাবা
/t̪eletʃuŋɡaj zaba/লাভেমূলে নষ্ট হওয়া; সর্বস্ব খোয়ানো।
বেশ লাভ করাত গিআ মোর তেলে চুংগায় গেল।
তেলো
/t̪elo/একপ্রকার চিরহরিৎ বুনো বৃক্ষ। এই গাছ ৬০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। বেড় হয় ৮ থেকে ১০ হাত। গাছের বাকল মসৃণ ও সবুজ বর্ণ। আম পাতার মতো পাতা। কাঠের রং লাল। ভারী ও শক্ত। এই কাঠ দিয়ে গুড়কলের খুঁটি তৈরি হয়। বৈজ্ঞানিক নাম— Canophyllum Enophyllum.
তেশইট
/t̪esɔiʈ/৬৩ সংখ্যা বা সংখ্যক।
তেশা
/t̪esa/চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি মিঠাই বিশেষ; বাতাসা।
তৈরি মাচা বা
/t̪oiri matʃa ba/সহায়-সম্বলহীন হওয়া।
আমরা থাকতে তুমি কিতা পানিত পড়ি গেছ নি?
ত্তমরা
/t̪t̪ɔmɔra/বিষণ্ণ ; মন খারাপ হয়েছে এমন।
খালি গুমরা অইআ থাকস, কিতা অইছে তোর?
ত্ত্বকতি
/t̪t̪ɔkɔt̪i/হাতিধরার কাজে ব্যবহৃত লোহার পরিচালন যন্ত্র।
ভারী ও তীক্ষ্ণ তিরের ফলার মতো যন্ত্র। লৌহনির্মিত। হাতলে ছিদ্র করে একগাছা দড়ি লাগানো থাকে। হাতি ধরার সময় মাহুত এ যন্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে হাতিকে চলার সংকেত দেয়। এক অনুচ্চারিত হাতি চালনার পরিভাষা।
ত্রআমুরি চুল
/t̪rɔamuri tʃul/(আলং) ঘন কালো কোঁকড়ানো চুল।
উসতাদ জাকির উশেনর চুল অলা সুনদর