ড
ডংডংগা
/ɖɔŋɖɔŋɡa/স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লম্বা ও উঁচু।
ডংডংগা গুআ গাছো গুআ ধরে না।
ডংডাং
/ɖɔŋɖaŋ/রঙ্গ তামাশা।
তোর বউনার লগে ডং ডাং কর গিজা।
ডটা
/ɖɔʈa/পাড়া বেড়ানো।
কামধাম নাই, হারাদিন ডটিআ আইআ দুগ্গু গিলিলাইলা।
ডন
/ɖɔn/ব্যায়াম।
পতাবালা ডন করলে কুড়িআমিএ ধরে না।
ডনকলশ
/ɖɔnɔkɔlɔs/ডানকুনি গাছ; গুল্ম বিশেষ। সবুজ চিরল পাতা। ফুল ছোট ছোট সাদা। তিল ফুলের মতো। পাতা অনেকটা গাঁদাফুলের পাতার মতো। মাঠে ঘাটে জন্মায়।
ডফকি
/ɖɔpʰɔki/একপাশে চামড়া লাগানো খঞ্জনির মতো আনদ্ধ প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র বিশেষ।
ডমকা
/ɖɔmɔka/বৃহদাকার সেচন যন্ত্র। ডমকা বড় টিনের পাত্র বা টিন দিয়ে তৈরি করা হয়। ডমকার দুদিকে দুগাছি করে প্যাঁচ ছয় হাত দড়ি। দুজনে দুহাতে জোড়া দড়ি ধরে জলসেচন করে থাকে। বিশেষত ডাঙা জমিতে।
ডরালুক
/ɖɔraluk/ভীরু।
রাইত ডরালুকরে লইআ মাছ মারাত জাইও না।
ডরি
/ɖɔri/বাঁশের শলা দিয়ে তৈরি মাঝারি আকারের মাছ ধরার অর্ধচন্দ্রাকার ফাঁদ বিশেষ।
ডরি আল বা ক্ষুদ্র বাঁধের জলনালিতে খাড়া করে বসানো হয়।
ডলু
/ɖɔlu/বাঁশ বিশেষ। পাতলা কালচে বাঁশ। ঋজু ও লম্বা হয়। গায়ে চকচকে রোমাবলি থাকে। সূক্ষ্ম বেত তৈরির আদর্শ বাঁশ। পাকা ডলু দিয়ে ঘরের ভালো 'রুআ' হয়। ডলুবাঁশের চুঙ দিয়ে তৈরি হয় প্রসিদ্ধ ‘চুংগাপিঠা'। ডলুবাঁশের বৈজ্ঞানিক নাম Teinostaeyum Dullooa.
ডা
/ɖa/বরাক বাংলার খাঁটি কৃৎপ্রত্যয় ‘ডা’। নিপুণ বা পারঙ্গম অর্থে ব্যবহৃত হয়। নির্মিত হয় বিশেষণ। যেমন— পড় + ডা = পড়া, কর্ + ডা = কর্ডা, চড় + ডা = চড়া।
ডাই
/ɖai/লোহার রড় প্রভৃতি বাঁকা করবার খাঁজকাটা মজবুত লৌহদণ্ড।
ডাইআ
/ɖaia/ডেয়ে পিঁপড়া; বিষাক্ত হুল যুক্ত লাল রঙের পিঁপড়া বিশেষ।
ডাইক
/ɖaik/মার্বেল খেলার প্রধান গুটি। ডাইক অন্যান্য মার্বেল গুটি থেকে সামান্য বড় হয়।
ডাইন
/ɖain/দক্ষিণ; ডান।
কুনোবায় জাইতে ডাইনবাউ চাইআ জাইও।
ডাইল
/ɖail/ডাল; মুগ, মুশুর, মটর, অড়হর জাতীয় দ্বিদল শস্য।
অরল ডাইল
ডাইল অআ
/ɖailɔ ɔa/ডাল হওয়া; ভেঙে ডালের মতো হওয়া।
ই টংটংগা গুআ গাছ তনে পড়লে একেরে ডাইল অই জাইবে।
ডাং
/ɖaŋ/দণ্ড।
ডাংগা
/ɖaŋɡa/উচ্চভূমি; যে জমিতে জল থাকে না।
ভালো বৃষ্টি না হলে এরূপ জমিতে খেত হয় না।
ডাংগুটটি
/ɖaŋɡuʈɔʈi/ছোটদের খেলা বিশেষ। গাছের ডালের তৈরি একহাত পরিমাণ একটি এবং দুই ইঞ্চি পরিমাণ আরকটি দণ্ড দিয়ে ডাংগুটটি খেলাটি খেলতে হয়।
ডাক
/ɖak/খেলার আহ্বান।
বনদি খেড়ির ডাক
ডাক অআ
/ɖakɔ ɔa/নদীর অংশ বিশেষ, ছোটনদী, বাজার, খেয়াঘাট, প্রভৃতি একবছরের জন্য নিলাম হওয়া বা ঠিকা দেওয়া।
কাটাখাল ই হাফতা ডাক অইব।
ডাক রাখা
/ɖakɔ rakʰa/নদী, বাজার, খেয়াঘাট প্রভৃতি ইজারা রাখা।
বাজার ডাক রাখিআ হরুচা'র বউত লাভ অইছে।
ডাকআলা
/ɖakɔala/রানার; ডাকহরকরা।
ডাকতর
/ɖakɔt̪ɔr/চিকিৎসক।
গাউদেশো ডাকতর পাবা জায় না।
ডাকর কথা
/ɖakɔrɔ kɔt̪ʰa/প্রবাদবাক্য।
ডাকু
/ɖaku/অঙ্কের প্রশ্ন।
ডাক ভুল এরশালে অঙ্ক মিলের না।
ডাক্
/ɖak/খেলার আহ্বান।
বনদি খেড়ির ডাক বড়ডি খেড়ির ডাক দ্র. উআ
ডাক্রা
/ɖakra/আধপাকা; ডাঁশা।
ডাক্রা কাঠলগুইন পাড়ি লাও।
ডাট
/ɖaʈ/অনমনীয়; মজবুত।
ডাট অইআ উবাও।
ডাটটা
/ɖaʈɔʈa/মজবুত; দৃঢ়।
টুললির লাগি একখান ডাটটা খাপ ল।
ডানডা
/ɖanɔɖa/লাঠি; দণ্ড বিশেষ।
কালিগদার (গাছ) ডান্ডা।
ডানডানি
/ɖanɔɖani/লাঠি দিয়ে প্রহার করা।
জেতা বানদর ইতারে ডানডাইমু।
ডাফইর
/ɖapʰɔir/দ্র. ডাফুর।
ডাফনা
/ɖapʰɔna/পাখির ডানা; মানুষের বাহুমূলসহ বাহু।
পারর বাইচায় আবো ডাফনা মেলা হিখিছইন না।
ডাফুর
/ɖapʰur/মাছকে আকর্ষণ করার জন্য বঁড়শির দণ্ড দিয়ে জলে মাছের ‘ঘাই’ এর মতো শব্দ সৃষ্টি করা।
ডাফুর দিলে চেং লাগব।
ডাব
/ɖab/ধান প্রভৃতি রোদে মেলে দেওয়ার হাতিয়ার বা যন্ত্র বিশেষ।
বউএ ডাব দি চার ধানটাইন আটাইলাও।
ডাবা
/ɖaba/আত্মসাৎ করা।
রাড়িবেটির টেকাও তারা ডাবিছইন।
ডাব্বা
/ɖaba/রেলগাড়ির কামরা।
ভরমর পইলা ডাব্বাত উঠিছে।
ডাম
/ɖam/বাঁশের বেতের চাটাই বা দরমা।
শস্যাদি রোদে মেলে শুকানোর জন্য 'ডাম’ ব্যবহৃত হয়।
ডার বা
/ɖarɔ ba/রেলগাড়ির কামরা।
ভরমর পইলা ডাব্বাত উঠিছে।
ডারা
/ɖara/আত্মসাৎ করা।
রাড়িবেটির টেকাও তারা ডাবিছইন।
ডাল
/ɖal/আংটির পাথর ও ধাতু কাটার সূক্ষ্ম তার জাতীয় যন্ত্র বিশেষ। যন্ত্রটি স্যাকরারা ব্যবহার করেন।
ডালচিনি
/ɖalɔtʃini/ঝালমধুর স্বাদবিশিষ্ট গাছের ছাল; দারচিনি।
ডালমুগরা
/ɖalɔmuɡɔra/চিরসবুজ বৃক্ষ বিশেষ। এই গাছ উচ্চতায় ৬০ হাত, বেড়ে ৬ হাত পর্যন্ত হয়। আমপাতার মতো পাতা তবে কিছুটা লম্বাটে। গাছের বাকল সবুজ ও মসৃণ। সবুজ ফল আকারে কমলার মতো হলেও শাঁস কঠিন। কাঠও খুব শক্ত। বৈজ্ঞানিক নাম— Gynocordia Odorata.
ডালা
/ɖala/বাঁশের তৈরি গোলাকার প্রশস্ত পাত্র; চেপটা ও গোলাকার কুলো বিশেষ। শস্যাদি ঝাড়া থেকে শুরু করে নানা গৃহস্থালি কাজের অত্যাবশ্যক আসবাব এই ‘ডালা'।
ডালাদি তিলগুইন ঝারিআ মেলি দে।
ডালানি
/ɖalani/গাছের ডাল কেটে ফেলা; গাছের ডাল ছেঁটে ফেলা। গাছের ডালকে উদ্ভিদবিজ্ঞান সম্মতভাবে অর্থাৎ গাছের কোনোরূপ ক্ষতি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাটা বা ছাঁটাকে ‘ডালানি’ বলা হয়।
পিংগাছগু ডালাইও।
ডালুআ
/ɖalua/শাখাযুক্ত।
দুডালুআ গাছ।
ডিংগামানিক
/ɖiŋɡamanik/বড় আকারের কলাবিশেষ। দীর্ঘতম কলা। ১০ থেকে ১৪ ইঞ্চি লম্বা হয়। সুগন্ধযুক্ত। এর মতো ভেষজগুণ সমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর কলা আর নেই। আয়ুর্বেদ ও টোটকা চিকিৎসায় এর ব্যবহার সমাজে প্রচলিত। এই বিরল প্রজাতির কলা সবজায়গায় হয় না। যার বাড়িতে হয় তাকে সৌভাগ্যশালী লোক বলে লোকে ধরে নেয়।
ডিংলা
/ɖiŋla/মিঠা কুমড়া।
ডিংলা আর ডেকে লাবড়া।
ডিকনা
/ɖikɔna/তেরচা করে ঠেস দেওয়ার খুঁটি বা দণ্ড।
ডিকনা না দিলে ঘর পড়ি জাইব।
ডিক্
/ɖik/ঘর বা ঘরের চালকে সোজা বা খাড়া রাখার জন্য ব্যবহৃত মজবুত ঠেকনা।
ডিগরা
/ɖiɡɔra/গোরুমহিষাদি বেঁধে রাখার লম্বা দড়ি। ডিগরা সাধারণত ২৫/৩০ হাত লম্বা থাকে। ডিগরাতে বাঁধা থেকেও গোরু নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে চরে খেতে পায়।
ডিগা
/ɖiɡa/অপক; অপরিণত।
ডিগা বা (= বাঁশ)।
ডিগি
/ɖiɡi/পায়ের বুড়ো আঙুলের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ান।
ডিগি দিলেউ বইর টাক লাগাল পাইবে।
ডিগি মারা
/ɖiɡi mara/পায়ের দুই বুড়ো আঙুলের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ানো। উদ্দেশ্য, কিছুটা লম্বা হয়ে কিছু নাগাল পাবার চেষ্টা।
ডিগ্রা
/ɖiɡra/গোরুমহিষাদি বেঁধে রাখার লম্বা দড়ি।
ডিগরা সাধারণত ২৫/৩০ হাত লম্বা থাকে। ডিগরাতে বাঁধা থেকেও গোরু নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে চরে খেতে পায়।
ডিট
/ɖiʈ/কুনজর।
ডিট লাগলে লবণপড়া খাবাও।
ডিটকুআ
/ɖiʈɔkua/অশুভ দৃষ্টি দেয় যে; একদৃষ্টিতে অনেকক্ষণ চেয়ে থাকতে পারে যে।
খানির সময় কুন ডিটকুআয় ডিট দিছে এরশালে পেট ফুলিছে।
ডিফা
/ɖipʰa/বোতল বা শিশির ছিপি; যেকোনো ছিদ্র বন্ধ করার জন্য ব্যবহৃত কৌশল।
শিশিনর ডিফা আউরিছে।
ডিবি
/ɖibi/কৌটা।
চুনর ডিবি
ডিমা
/ɖima/ডিম পাড়ে এমন।
ডিমা মুরকি; ডিমা আস।
ডিমাসা
/ɖimasa/উত্তর-পূর্ব ভারতের অতি প্রাচীন উপজাতি বিশেষ। ‘ডিমাসা' শব্দের অর্থ স্রোতহারা নদীতীরের বাসিন্দা বা বিস্তীর্ণ নদীর জলের সন্তান। গঙ্গা নদীর মোহনার (বর্তমান বাংলাদেশ) বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এদের আদি বাসস্থান ছিল বলে ডিমাসা পণ্ডিতদের অভিমত। মহাভারতের ঘটোৎকচের (ভীম হিড়িম্বার পুত্র) পুত্র মেঘবর্ণ ডিমাসাদের আদি পুরুষ বলে মান্য করা হয়। ত্রয়োদশ শতাব্দ থেকে ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ডিমাসারা ডিমাপুর (নাগাভূমি), মাইবাং (আসাম), খাসপুর (দক্ষিণ আসাম) প্রভৃতি স্থানকে রাজধানী করে ডিমাসা কাছাড়ি রাজ্য গড়ে তোলে রাজত্ব করেছিল। সে সময়ে এই অঞ্চলে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্পকলা, কৃষি ও বাণিজ্য অসাধারণ বিকাশ লাভ করেছিল। খনিজ লবণ প্রস্তুত ও কৃষিক্ষেত্রে জৈব ও পচন সারের ব্যবহার তাঁদের অন্যতম অবদান। ডিমাসা কাছাড়ি রাজা সুরদর্প নারায়ণ (১৭০৮-২০ খ্রি.) থেকে গোবিন্দ চন্দ্র নারায়ণ (১৮১৩-৩০ খ্রি.) সকলেই ছিলেন পণ্ডিত ও সাহিত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক। এখানে উল্লেখ্য, ত্রিপুরা ও কোচবিহার রাজ্যের মতো ডিমাসা রাজারাও বাংলা ভাষাকে রাজভাষা রূপে গ্রহণ করেছিলেন। ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ডিমাসা রাজা মেঘনারায়ণের সিংহদ্বারলিপি বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম শিলালিপি। বাংলা গদ্যে প্রথম আইন প্রণয়ন করেন ডিমাসা রাজারাই (‘কাছাড়ীর আইন’; ‘হেড়ম্ব রাজ্যের দণ্ডবিধি')। ডিমাসারা এখন আসাম, নাগাভূমি ও বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছেন। ওদের চেহারা শক্তসমর্থ। মুখমণ্ডল বিস্তৃত। নাক তীক্ষ্ণ নয়। ঠোঁট পাতলা। চুল খাড়া খাড়া। গায়ের রং শ্যাম ও গৌর। ডিমাসারা শিবারাই (শিব) গামাডির (দুর্গা) উপাসক। প্রাচীনকাল থেকেই ওরা শাক্ত। ওরা দ গোত্রের মতো মাতৃকুল ও পিতৃকুল বিচার করে বিবাহাদি করে। ওদের প্রধান উৎসব ‘বুসু’।
ডিলডিলা
/ɖilɔɖila/ঢিলেঢালা।
ডিলডিলা আংগরখা গরমো ভালা।
ডিলা
/ɖila/শিথিল; ভালোভাবে বদ্ধ নয় এমন।
তোর জামার আত একেরে ডিলা।
ডু
/ɖu/বাঁশের শলা দিয়ে তৈরি বড় মাছ ধরার ফাঁদ বিশেষ। এটি আকারে বিশাল। গোটা মানুষ পর্যন্ত এর ভেতর দিব্যি ধরে যাবে।
ডুঅইলমিঅইল
/ɖuɔilɔmiɔil/উলটপালট; এলোমেলো; মিশ্রিত।
হকলতা ডুঅইল মিঅইল, আলগাইআ ঠিক করা লাগব।
ডুআনি
/ɖuani/জঞ্জাল সরিয়ে খোঁজা।
অত হরু কানর ফুলর লাগি হুদা খেরর ঘর ডুআরায়।
ডুংগা
/ɖuŋɡa/পাতা বা কাগজ দিয়ে তৈরি আধার; ঠোঙা।
গুআর খুল দি ডুংগা বানাইআ কাঠল বিচিটাইন ল।
ডুংগা্
/ɖuŋɡa্/কলাগাছের বাকল কেটে তৈরি নৌকাকৃতি ছোট আকারের জলপাত্র।
শ্রাদ্ধাদি ক্রিয়াতে পুরোহিত এরূপ পাত্র তৈরি করেন। এবং তাতে জল, তিল, চাল ইত্যাদি উপচার রাখা হয়। ⇒ 'কার হরাদ কুনে করে, ডুংগা কাটি বাবন (ব্রাহ্মণ) মরে।’ —বপ্র.
ডুংগি খেইড়
/ɖuŋɡi kʰeiɽ/ছোটদের খেলা বিশেষ। ঘাসের আগায় গিঁট দিয়ে খেলাটি আরম্ভ হয়।
ডুগা
/ɖuɡa/অগ্রভাগ; লাউ, মিঠাকুমড়ো প্রভৃতি লতাগাছের অগ্রভাগ।
খাইবার কুন্তা নাই ঘরো, বিলাতির ডুগা আনিআ শাগ বানাইছি।
ডুগি
/ɖuɡi/উদ্ভিদের আগা।
পিয়াজর ডুগি
ডুগ্লা
/ɖuɡla/যারা পশুর চামড়া ছাড়িয়ে শুকিয়ে বেচে; অস্নাত থেকে ময়লা কাপড় পরিধান করে যে।
হারাদিন হে ডুগলার লাখান ডটে।
ডুপবেত
/ɖupɔbet̪/সওয়া একহাত লম্বা বাঁশের বেত। বেতুআ বা ডলু বাঁশ থেকে এই বেত তৈরি করা হয়। ঘরের চাল ছাওয়া বা ইকড়ের (= উলুখড়) বেড়ার কাজে ডুপবেত ব্যবহৃত হয়।
ডুপি
/ɖupi/ঘুঘু পাখি; Dove. ডুপির বৈজ্ঞানিক নাম Streptopelia. ডুপি দুরকমের: চিত্রা ডুপি বা ছিঘুঘু (বৈজ্ঞানিক নাম Streptopelia Chenenses); লালি ডুপি বা কণ্ঠী ঘুঘু (বৈজ্ঞানিক নাম Streptopelia Tranquebarica)। চিত্রা ডুপি — এ জাতীয় পাখি আকারে ময়না আর কবুতরের মাঝামাঝি। এই পাখির গায়ে গোলাপি বাদামি রঙের ও সাদা সাদা ফুটকি আছে। নীচের অংশ ধূসর। জল-ক্ষেত-গাছ থাকা জায়গায় ওরা দল বেঁধে বেড়ায়। ফসল কেটে নেওয়া মাঠে ওদের বেশি দেখা যায়। বাড়ির কার্নিশে বা ঝোপঝাড়ের মধ্যে ওরা বাসা বাঁধে। পোষ মানে। শস্য এদের প্রধান খাদ্য। ক্রু-ক্রুক-ক্রুক-ক্রু ক্রু-ক্রু... শব্দের একটানা ডাক বেশ করুণ ও মধুর। ডিম সাদা। লালিডুপি — আকারপ্রকার চিত্রা ডুপির মতোই। কেবল সাদা ফুটকি নেই। স্ত্রী পাখির রং ফিকে বাদামি ধূসর। এরা সংখ্যায় কম। লোকালয়ের কাছে থাকতে চায় না। ক্ষেতে বা শুকনো অঞ্চলে ওরা চরে। গাছের ডালে বাসা বাঁধে। ডাক কর্কশ গুর-গু…।
ডুফনা
/ɖupʰɔna/বেড়া, মাচা, চাল প্রভৃতির কোনো অংশ ঠেস দিয়ে আটকে রাখার জন্য ব্যবহৃত ক্ষুদ্রকায় খুঁটি।
‘ডুফনা’ লম্বা। এটি খাঁড়া করে ঠেস দেওয়া হয়। ‘ডিক’ ঘরের খুঁটির চেয়েও লম্বা ও মজবুত। ঘরকে সোজা রাখা বা তুফানের হাত থেকে রক্ষার জন্য তেরচা করে বসানো হয়। ‘ডিকনা' ছোট এবং এটি তেরচা করে ঠেস দেওয়া হয়।
ডুবা
/ɖuba/সবজির ছোট বাগান।
বাখরর ডুবাত বাখর নাই।
ডুম
/ɖum/নিম্নবর্ণের অতি অনুন্নত হিন্দু জাতি বিশেষ। বরাক উপত্যকার আদি বাঙালিদের অধিকাংশই নিম্নবর্ণের হিন্দু। এখন এরা সকলেই কৃষিজীবী।
ডুরা
/ɖura/কাপড়ের পাড়; শাড়ির পাড়।
কাঁথা সেলাইর জন্য গ্রামের মেয়েরা শাড়ির পাড় থেকে রঙিন সূতা বের করে। এসব সূতা দিয়ে ছোট ছোট দড়ি বলে ‘সিকা' প্রস্তুত করে।
ডুল
/ɖul/শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা; রং খেলার উৎসব।
রাধারমণর আখড়াত ইবার বড় করি ডুল অইত।
ডুলটি
/ɖulɔʈi/হাতি শিকারের জন্য ব্যবহৃত ৩০০ হাত দীর্ঘ বড় পাটের দড়ি। শিকারি হাতিটিকে এই দড়ি দিয়ে সজ্জিত করা হয়। যাতে মাহুত ও ফানদি (দ্র.) হাতির বিশাল দেহে সহজে ওঠানামা ও দৌড়ানোর সময় সহজে হাতির ওপর আরোহণ করা বা পেটের তলায় কানের পেছনে লুকিয়ে পড়া যায়।
ডুললি
/ɖulɔli/কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত পালকি।
আগে ডুললিত করি কইননা বুবাই লইআ জাইতা।
ডুলা
/ɖula/মশলা রূপে ব্যবহৃত সুগন্ধি শস্য বিশেষ; ধনেপাতা।
পুজা বাদেউ লাই আর ডুলা বিচাত্ ছিটাইমু।
ডুল্ব
/ɖul/বেতের বা বাঁশের বেতের তৈরি মাঝারি আকারের শস্য রাখার পাত্র।
ডুশ
/ɖus/মাথা বা শিং দিয়ে আঘাত করা; আঘাত।
‘ডুশ না খাইলে হুশ অয় না।’
ডেউআ
/ɖeua/চামগাছের ফলের আকৃতি ক্ষুদ্র টক ফল বিশেষ। বড় গাছ। চামগাছের মতো পাতা। কাঁঠাল জাতীয় ক্ষুদ্র ফল। রং হালকা সবুজ, পাকলে হলদে হয়। কাঁঠালের মতো কোয়া ও বিচি আছে। স্বাদ টক। মাঝারি আকারের সুন্দর গাছটির গুড়ি বেশি বড় হয় না। গাছের উপরের অংশ প্রায় গোলাকার। কচি ডালপালার বাকল মসৃণ কিন্তু গুড়ির বাকল এবড়োথেবড়ো। পাতা আকারে বড়, চামড়ার মতো। পাতার উপরদিক মসৃণ, নীচের দিক রোমযুক্ত। বোঁটা ছোট এবং বোঁটার গোড়ার দিক লালচে রঙের। গোলাকার পুষ্প বিন্যাসে ছোট ছোট ফুলগুলি সাজানো থাকে। ফুল একলিঙ্গ। একই গাছে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্পবিন্যাসে স্ত্রী ও পুং পুষ্প জন্মায়। পুং পুষ্পবিন্যাস কমলা রঙের, স্পঞ্জের মতো এবং তা গাছ হতে ঝরে পড়ে। ছোটবেলায় শ্লেট মোছার জন্য অনেকে হয়তো এর ব্যবহার করে থাকবেন। স্ত্রী পুষ্পমুণ্ডক হতে আসমান আকৃতির ফল জন্মায়। ফলের খোসা মসৃণ, রং হলদে। শীতের সময় গাছের পাতা ঝরে যায়। মার্চ পর্যন্ত নূতন পাতা গজায়। একই সময় গাছে ফুলও আসে। বর্ষায় ফল পাকে। — নলিনী। ফলের স্বাদ টক ও সুগন্ধ। বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus Lakoocha Roxb.
ডেউআনি
/ɖeuani/কলসি দিয়ে জলে আঘাত করে ঢেউ সৃষ্টি করা; ঢেউ তোলা।
ডেউআইআ কইলাত পানি ভর।
ডেউংরা
/ɖeuŋra/ডুমুর গাছ বা ফল। ‘গ্রাম বাংলার খুব পরিচিত গাছ। তবে খুব অবহেলিত। মাঝারি আকারের হয়। পাতা সবুজ, কিন্তু খসখসে ও ছোট লোমে ঢাকা থাকে। ফুল হালকা পীতাভ। বর্ষায় ফুল ও শীতে ফল ধরে। ফল পাকলে লাল রঙের হয়। একে জগডুমুরও বলা হয়। — আজহার ইসলাম।
ডেউংরা ্
/ɖeuŋra ্/ডুমুর গাছ বা ফল।
‘গ্রাম বাংলার খুব পরিচিত গাছ। তাঁবে খুব অবহেলিত। মাঝারি আকারের হয়। পাতা সবুজ, কিন্তু খসখসে ও ছোট লোমে ঢাকা থাকে। ফুল হালকা পীতাভ। বর্ষায় ফুল ও শীতে ফল ধরে। ফল পাকলে লাল রঙের হয়। একে জগড়ুমুরও বলা হয়।’ — আজহার ইসলাম
ডেউংরাৢ
/ɖeuŋraৢ/ছোট বৃক্ষ বিশেষ; ডুমুর গাছ। ra ডেখবি প্রচুর ফল হয়। এর কাঠ কোনো কাজে লাগে না। বৈজ্ঞানিক নাম — Ficus Hispida L.
‘বড় গুন্ম জাতীয় গাছ। বাকল ধৃসর। পাতা আকারে বড়, শক্ত রোমযুক্ত। সাধারণত অভিমুখ পত্রবিন্যাসে সাজানো। পাতার নীচের দিকের শিরাগুলি বেশ স্পষ্ট এবং কিনারা অনেকটা করাতের মতো খাঁজ কাটা। পাতা পশুখাদ্য, এর বাকল হতে মোটা তন্তু পাওয়া যায়।’ — নলিনী। এর ফুল দেখা যায় না। বৈশাখ থেকে শ্রাবণ গাছে
ডেং
/ɖeŋ/উপর-নিচ বাঁক; কুঞ্চন; মোচড়।
বরুআ বা'র ডেং থাকেউ।
ডেং খাবা
/ɖeŋ kʰaba/বাঁশ ও গাছ নিচের দিক থেকে বেঁকে আবার উপরে উঠে যাওয়া।
তুফান দিলে আসরাধান ডেং খায়।
ডেংগা
/ɖeŋɡa/লাল জাতীয় প্রসিদ্ধ শাক; ডাঁটা শাক। পাঁচ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। লাল গাছ। পাতা সবুজ। বর্ষায় ফলে। বীজ সর্ষেদানার মতো। রং কালো।
ডেংগাইডেংগাই
/ɖeŋɡaiɖeŋɡai/পঙ্গুর মতো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।
খেড়িত পাও কচকিছে, এর লাগি হে ডেংগাই ডেংগাই আটের।
ডেংগুর খাবা
/ɖeŋɡurɔ kʰaba/প্রতারিত হওয়া; ব্যর্থ হওয়া।
মুই কিরনর লগে উজানো গিআ ডেংগুর খাইলাম।
ডেকইর
/ɖekɔir/উদ্গার।
হুকইন দি খাইআ মাছর ডেকইর।
ডেককানি
/ɖekɔkani/ধাক্কা মারা।
ফুডবল খেড়িত হে খালি ডেককায়।
ডেকি
/ɖeki/যৌবনবতী স্ত্রী গোরু বা মহিষ। ঋতুমতী হলে ডেকি। মা হলে গাই। মোষ-মা'কে বলে কাউকনি।
ইবার আমরার ডেকি এ পাল খাইব।
ডেক্কা
/ɖekka/ধাক্কা; ঠেলা; হঠাৎ ঠেলা।
একই ডেক্কায় হি উড়িআ পড়ছে।
ডেক্কাডেক্কি
/ɖekkaɖekki/ঠেলাঠেলি।
ডেক্কানি
/ɖekkani/ধাক্কা মারা।
ফুডবল খেড়িত হে খালি ডেককায়।
ডেখ
/ɖekʰ/কলাগাছের নরম নিরেট অভ্যন্তর ভাগ; কলাগাছের মজ্জা।
ডেখ না অইলে বইরাগির লাবড়া অয় না।
ডেখরা
/ɖekʰɔra/উঠতি বয়সি; নবযৌবনপ্রাপ্ত।
‘ডেখরা গরুএ বাঘ চিনে না।’ — বরাকপ্রবাদ।
ডেখরামি
/ɖekʰɔrami/যৌবনসুলভ আচরণ (নিন্দার্থে)। শব্দটি ছেলেমেয়েদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণকেই বোঝায়।
ডেখরি
/ɖekʰɔri/সোমত্ত; যৌবনবতী।
হদিন দেখলাম লেংটি, আইজ তাই ডেখরি।
ডেটা
/ɖeʈa/বোঁটা; Stalk।
বাইনগনর ডেটা ফালাইআ কাটিস।
ডেটু
/ɖeʈu/বোঁটা।
ডেফলর ডেটু ছিড়িস না।
ডেফডেফা
/ɖepʰɔɖepʰa/পরিপূর্ণ; কানায় কানায় ভরা।
মেঘর পানিএ পুকইর ডেফডেফা।
ডেফল
/ɖepʰɔl/সবুজ রঙের পেয়ারার মতো দেখতে অতি টকফল বিশেষ; Monkey Jack। ডেফলের গাছ ৩০ হাতের মতো উঁচু হয়। পাতা পুরু ও চকচকে ঘনসবুজ। পাতার আকার অনেকটা আমপাতার মতোই। তবে ফল বোঁটার দিকটা মোটা অগ্রভাগ ক্রমশ সূক্ষ্ম। সুপারির মতো শক্ত তিনটে বা চারটে লম্বাটে বিচি থাকে। পাকলে ফলটি হলদে হয়। এ ফল খুব টক তবে রুচিকর। চাটনি ও আচারের জন্য প্রসিদ্ধ। বসন্তে ফুল হয়, জ্যৈষ্ঠতে ফল পাকে। জন্মস্থান এই বাংলায়।
ডেফলি
/ɖepʰɔli/ডেফলার স্ত্রীবাচক বিশেষণ।
ডেফ্লা
/ɖepʰla/নাদুস-নুদুস; গোলগাল।
ই ডেফলা বেটায় কাম করত কিতা, লড়িতেচড়িতেই ছ'মাস।
ডেম
/ɖem/গাছের গোড়া থেকে উদগত ছোট চারা; কলাগাছের মুকি।
ডেমা
/ɖema/কিশোরী; নবযুবতী; অবিবাহিতা যুবতী; কচি মেয়ে।
‘কেটকেটাইআ উঠলি এমন ঘরো জেগু ডেমা, পাকনামি আর করিস না তোর মুখখান থামা।’ — মাহতাবুর
ডেমি
/ɖemi/কচি রয়েছে এমন।
ডেমি কলার চেরা (= চারা)।
ডেম্বা
/ɖema/নরম খাদ্যবস্তুর স্তূপ; ডেলা।
খিচুড়ির ডেমরা
ডেলডেলা
/ɖelɔɖela/গ্যালগেলে; গলে গেছে এমন।
ডেলডেলা খিচুড়ি
ডেলি
/ɖeli/ডুল; ডুলু (শস্য রাখার পাত্র)।