ধ
ধআয় ধআয়
/d̪ʱɔaj d̪ʱɔaj/পাখি তাড়ানোর হাঁক।
‘নাজিমে লইছে ধআয় ধআয়, মুকর ছাও নিছেগি কাউআয়।' —আনন্দ
ধড়ধড়
/d̪ʱɔɽd̪ʱɽ/একাধিক ব্যক্তির দৌড়ানোর আওয়াজ।
ধড়ধড় করি চুর ভাগিছইন।
ধড়পড় করা
/d̪ʱɔɽpɔɽ kɔra/নাড়ী স্পন্দিত হওয়া; যন্ত্রণায় ছটপট করা।
আবো জান রইছে, বুকে ধড়পড় করের। ডাকতর ডাক্।
ধড়পড়ানি
/d̪ʱɔɽpɔɽাni/ভয়ে বুক কেঁপে ওঠা।
ডরে আমার বুক আবো ধড়পড়ার।
ধড়া
/d̪ʱɽা/রোগা পাত্লা।
ধতা
/d̪ʱɔt̪a/ঘন ঘন জোরে জোরে শ্বাসগ্রহণ ও ত্যাগ করা; হাঁপানো।
ভুবনপাড়ো উঠতে হকলেউ ধতইন্।
ধনি
/d̪ʱɔni/সাঁকোর দুপাশের বেড়া বা বেঁধে দেওয়া বাঁশ যা ধরে ধরে পার হতে হয়।
একগাছুআ পুল ধনি না অইলে পারোনি জাইত নায়।
ধন্নি
/d̪ʱɔnni/সাঁকোর দুপাশের বেড়া বা বেঁধে দেওয়া বাঁশ যা ধরে ধরে পার হতে হয়।
একগাছুআ পুল ধন্নি না অইলে পারোনি জাইত নায। ধন্নি
ধমকে বগুড়া উড়ানি
/d̪ʱɔmɔke bɔɡuɽা uɽাni/ভয় দেখিয়ে কার্যোদ্ধার করা।
হুনো বাছাই, মানে মানে হরি জাও, ইনো ধমকে বগুড়া উড়াইতায় পারতায় নায়।
ধরনি
/d̪ʱɔrɔni/দ্র. ধনি।
ধরা দেবা
/d̪ʱɔra d̪eba/কুলানো।
মালর দাম অলা বাড়িছে টেকায় ধরা দেয় না।
ধলফর
/d̪ʱɔlɔpʰɔr/ভোরের আলোর ঝলক।
কাইল ধলফর দিবার আগেউ বারনি লাগব।
ধলমেঘ
/d̪ʱɔlɔmeɡʱ/প্রসিদ্ধ শালিধান বিশেষ। সোনালি রং, চিকন দানা, সাদা চাল, সুস্বাদু ও উপাদেয়। ফলেও খুব। ধানের ডাটা শক্ত তাই ধান মাড়াই কষ্টকর।
ধলা
/d̪ʱɔla/সাদা রং।
ধলা, কালা, অইল্দা, মাটিআ কত রং।
ধলাউঝা
/d̪ʱɔlaudʒʱa/বৃক্ষ বিশেষ। পাতা জলপাই পাতার মতো, কিনারা দানাদার। ত্বক সাদা ও খসখসে। কাঠও সাদা। পাক খাওয়া দড়ির মতো টানটান ৪০/৫০ হাত উচ্চতার গাছ। তাই একে ‘পাকখির আড় গাছ’ও বলা হয়। কাঠ হিসেবে উৎকৃষ্ট নয়।
ধশি
/d̪ʱɔsi/তুলা বা কাপড় দিয়ে পাকানো সরু পলিতা বা দড়ি, যা প্রদীপে ব্যবহৃত হয়; সলতে।
লেমর ধশি বাড়াইআ দে।
ধাইর
/d̪ʱair/ঘরের সংলগ্ন চালে ঢাকা অবিচ্ছিন্ন অংশ; বারান্দা।
ধাইরকা
/d̪ʱairɔka/হঠাৎ ঢালু হয়ে যাওয়া কিনারা; খুব বেশি ঢালু স্থান।
ধাইরকা লাগ পাবাইআ গরু ডিগরা দিস না পড়িআ মরব।
ধাউড়
/d̪ʱauɽ/যে কথা দিয়ে কথা রাখে না এমন; নির্ধারিত সময়ে যে টাকা ফেরত দেয় না; প্রতারক।
আইজকাইলকুর মানু বড় ধাউড়।
ধাউড়ামি
/d̪ʱauɽাmi/প্রতারণা; ধাউড়ের মতো ব্যবহার।
মোর লগে ধাউড়ামি করিও না, বুচছো।
ধাংগড়
/d̪ʱaŋɡɽ/চাবাগানের দেশোয়ালি পুরুষ [অবজ্ঞায়]।
লাকড়ি ফারার লাগি চাবাগান তনে ধাংগড় আন।
ধাংড়া
/d̪ʱaŋɽা/দেশোয়ালি পুরুষ। দ্র. ধাংগড়।
ধাংড়ি
/d̪ʱaŋɽি/দেশোয়ালি স্ত্রী [অবজ্ঞায়/অনাদরে]।
ইট ভাটটার কামর লাগি ধাংড়িন ভালা।
ধাকধাক হৈআ
/d̪ʱakɔd̪ʱakɔ ɦoia/তীব্রভাবে; ভীষণভাবে।
চুত্রা পাত্তা লাগিআ শইললো ধাক্ধাকাইআ জলের।
ধাকধাকাইআ
/d̪ʱakɔd̪ʱakaia/তীব্রভাবে; ভীষণভাবে।
চুত্রা পাত্তা লাগিআ শইললো ধাক্কাকাই জলের।
ধাড়শি
/d̪ʱaɽsi/অমানুষিক শ্রম; অত্যধিক খাটুনি।
অয়-দ মাই, ধাড়শি করি আর কদিন খাইমু তনু পড়ি জার।
ধাড়া₁
/d̪ʱaɽা₁/শস্যাদি রোদে মেলে শুকানোর জন্য বাঁশবেতের তৈরি ছোট চাটাই; দরমা।
দুখান ধাড়া বানা, তিল পাককের।
ধাড়াৢ
/d̪ʱaɽাৢ/ধাড়া্
/d̪ʱaɽা্/শস্যাদি রোদে মেলে শুকানোর জন্য বাঁশবেতের তৈরি ছোট চাটাই; দরমা।
দুখান ধাড়া বানা, তিল পাককের।
ধাড়িআ
/d̪ʱaɽিa/দ্র. ধাড়া।
ধানদাবানদা
/d̪ʱanɔd̪abanɔd̪a/ঠগঠগামি।
মানর কিতা জে অইল, জার অনো জাই খালি ধানদাবানদা।
ধানদুবানদু
/d̪ʱanɔd̪ubanɔd̪u/ঠগ; প্রতারক।
তুমার বউনা বড় ধানুদুবানদু মানু।
ধানু
/d̪ʱanu/ধানের মতো।
ধানু মরিচ।
ধানু ধানু
/d̪ʱanu d̪ʱanu/চূর্ণ করা হয়েছে এমন; অতিশয় ক্ষুদ্র।
মাটির কইলা কাখ তনে পড়িআ একেরে ধানু ধানু।
ধানু ধানু মরিচ
/d̪ʱanu d̪ʱanu mɔritʃ/দেহে ক্ষুদ্র হলেও তেজালো।
জানস্ তো, ধানু মরিচর ঝেং বেশ।
ধামাইল
/d̪ʱamail/বরাক উপত্যকার সবচেয়ে জনপ্রিয় লোকনৃত্য।
‘ধামাইল নৃত্য বাদ্যকেন্দ্রিক নয়, তবে অত্যধিকভাবে তাল লয় আশ্রিত। সুতরাং একমাত্র গীতকে কেন্দ্র করেই নৃত্য সৃষ্টি হয়। গীতের কথা রচনা, সুর, ছন্দ, তাল ও লয়ের ওপর নির্ভরশীল ধামাইল নৃত্য।' —‘বরাক উপত্যকার লোকনৃত্য গ্রামীণ নৃত্যকলা’ — মুকুন্দদাস ভট্টাচার্য
ধার
/d̪ʱar/অস্ত্রের তীক্ষ্ণতা।
দা খান ধার দেও।
ধারে
/d̪ʱare/বিরামহীন ধারায়।
পুআর মরামুখ দেখিআ মা'র চখুর পানি ধারে ছুটিছে।
ধিআন
/d̪ʱian/একাগ্র দৃষ্টি।
ধিআন ধরা
/d̪ʱianɔ d̪ʱɔra/একাগ্রভাবে দৃষ্টিপাত করা।
কুড়িবায় তুমি কিতা ধিআন ধরছ।
ধুআর
/d̪ʱuar/প্রধান গায়কের উক্তি যারা পুনরায় গায়; ধুয়াধারী; সহযোগী গায়ক।
ধুইল
/d̪ʱuil/শুষ্ক মাটির গুড়া।
হউ চা, গাড়ি এ ধুইল উড়াইআ জার।
ধুইল পড়া
/d̪ʱuilɔ pɽা/মন্ত্রপুত ধুলা। কারো দৃষ্টিশক্তিকে বিভ্রান্ত করতে ধুলাকে মন্ত্রপুত করা হয়।
মুললায় তাইরে ধুইলপড়া দিসে নাইলে হকলতা চউকে দেখিআও তাই কুনতা মাতিলি না।
ধুত্রাকাটাইল
/d̪ʱut̪rakaʈail/বিবাহের অত্যাবশ্যক উপকরণ। এই উপকরণটি প্রস্তুত হয় শবরি কলার মাঝের পাতা বা মাইজ্ (দ্র.), বেগুন, ধুতুরা ফুল, ধান, দুর্বা, লোহার কাটারি এবং সূতা দিয়ে তোড়ার মতো করে সাজিয়ে। লোকসংস্কার অনুযায়ী এটি বিবাহের মঙ্গলকারক উপচার। বরযাত্রার সময় পাঁচ বা সাতজন সাধবা নারী এটি বরের হাতে তুলে দেন। কনের বাড়িতেও আর একটি তোড়া কনের হাতেও দেওয়া হয়। সাতপাকের মালা বদলের মতো ‘ধুত্রা কাটাইল’ও বর ও কনে পরস্পরের মধ্যে বদল করেন।
ধুনি
/d̪ʱuni/আগুনের কুণ্ড।
ধুপনি
/d̪ʱupɔni/আঁশযুক্ত ক্ষুদ্র মাছ বিশেষ। দারকিনা জাতীয় সামান্য গোলাকার ছোট মাছ। রং কালো। এ মাছ কেউ খায় না।
ধুপো উঠা
/d̪ʱupo uʈʰa/বেহিসাবে খরচ করা।
তুমি টেকা দুগ্গু পাইআ একেরে ধুপো উঠিছ।
ধুফ
/d̪ʱupʰ/আগুনের তাপ; ধোঁয়া। গর্তের মধ্যে কাঁচাকলার কাঁদি রেখে বিশেষ পদ্ধতিতে আগুনের তাপ ও ধোঁয়া দিয়ে কৃত্রিমভাবে কলা পাকানো হয়। কলা ব্যবসায়ীরা চটজলদি কলা পাকানোর জন্য এই কৌশল গ্রহণ করে থাকেন।
ধুফো ফালাইআ কলাগুইন পাকাও।
ধুমধাড়েংগা
/d̪ʱumɔd̪ʱaɽেŋɡa/এক চোটে; উৎসাহের সঙ্গে।
চল্, হকলোরে লইআ ধুমধাড়েংগা মানডর্ অগু বানাইলাই।
ধুমভইল
/d̪ʱumɔbʱɔil/পর্ণমোচী বৃক্ষ বিশেষ। দেখতে প্রায় শিমুল গাছের মতো। পাতার আকৃতি শিমুলের মতো হলে আকারে কিছুটা ছোট। শিমুলের মতো কলা ধরে কিন্তু ভেতরে তুলো থাকে না। উঁচু ৭০-৮০ ফুট পর্যন্ত হয়। বেড়ে ১০-১২ হাত হয়। বরাক উপত্যকায় এ গাছ প্রচুর জন্মে। বৈজ্ঞানিক নাম — Bombassinsignelora.
ধুমা
/d̪ʱuma/ধোঁয়া।
ভিজা লাকড়িএ ধুমা দেয়।
ধুর
/d̪ʱur/ধানচারার সারি।
লামার গুটিত খালি দুই ধুর রুইছি।
ধূমা দেবা
/d̪ʱuma d̪eba/সহায়তা করা।
তুমি পাইবায় টেকা আমি দিতাম ধুমা অয় না।