র
র
/r/সেঁদিয়ে যাওয়া ; লুকিয়ে থাকা।
‘খাসলত জায় না মইললে, কাথার তলে খুইলে।’ — বরাকপ্রবাদ
রআ
/rɔa/থাকা; অবস্থান করা; বাস করা।
কয়দিন রও দ, বাদে জাইবায়।
রইআ
/rɔia/কই জাতীয় ছোট মাছ বিশেষ।
আঁশযুক্ত সুস্বাদু মাছ। সবুজ-লাল রঙে চিত্রিত, সুন্দর। কদর আছে ভালোই।
রইআ বিরইন
/rɔia birɔin/বিন্নি ধানের প্রকার বিশেষ।
লাল-সোনালি-সাদায় চিত্রিত ধান। খইআ মাছের মতো। তাই এই নাম। চাল সাদা। উৎপাদন ও স্বাদ যন নরা।
রউ
/rɔu/সর্বজনপ্রিয় প্রসিদ্ধ মাছ – রুই।
আঁশযুক্ত বড় মাছ। পৃষ্ঠপক্ষ মাত্র একটি। তৈলাক্ত, স্বাদু ও উপাদেয়। জনশ্রুতি আছে রুইমাছের মুড়ো খেলে নাকি স্মৃতিশক্তি বাড়ে। বরাক নদীর রুইমাছ বিখ্যাত।
রউন
/rɔun/রসুন; Garlic.
রউন পুড়িআ হরুতারে খাবাইলে পেটর ভালা করে।
রংগিরাতা
/rɔŋɡirat̪a/চিরসবুজ বৃক্ষ বিশেষ।
এই গাছ ১০০ ফুটের মতো উঁচু হয়। বেড় ১০ হাত পর্যন্ত। ঋজুসুন্দর এই গাছে নিচের দিকে শাখা থাকে না। বাকল সাদা। কাঠ লাল। আম পাতার মতো পাতা; চওড়ায় সামান্য বেশি।
রংগিলা
/rɔŋɡila/রঙ্গ রসিকতায় পারদর্শিনী।
‘রংগিলা দিদি গো একবার রংগো করো দেখি।' — বরাকগীত
রকখানো
/rɔkɔkʰano/সমান ভাগ্য বিশিষ্ট।
তারা হকলউ এক খুরে মাথা মুড়াইল।
রক্ক
/rɔkk/অল্প; সামান্য।
হারা বিআলে তুইন এরুজাগা কুপিলে নি?
রগ
/rɔɡ/শরীরের শিরা; Nerve।
রগচটা
/rɔɡɔtʃɔʈa/সহজে বা সামান্যতেই রেগে ওঠে এমন।
রগচটা মানু।
রগা
/rɔɡa/কামুক; Sexy.
রগেরগে চিনা
/rɔɡerɔɡe tʃina/কারো স্বভাব-চরিত্র সম্বন্ধে অবগত হওয়া।
তার লগে রআ জাইত নায়, তারে মুই রগে রগে চিনি।
রদদি
/rɔd̪ɔd̪i/বাজে; নিকৃষ্ট মানের।
রদদি মালে বাজার ভরি গেছে।
রনি
/rɔni/মাছ ধরার ফাঁদ বিশেষ।
বাঁশের শলাকা দিয়ে তৈরি এই ফাঁদটি স্রোতযুক্ত নালায় তেরচা করে বসানো হয়।
রবট
/rɔbɔʈ/গাছ বিশেষের রস থেকে প্রস্তুত স্থিতিস্থাপক পদার্থ বিশেষ; রবার।
রভ়ি
/rɔbʱ়ি/স্বামী বা কুলত্যাগিনী নারী। কচাল।’— কৃকী।
'রাড়ির দিন ফিরে না এড়ির দিন ফিরে।’ —বরাকপ্রবাদ
রা
/ra/বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক বাংলা ভাষার খাঁটি কৃৎ প্রত্যয়। নিপুণ বা পারঙ্গম অর্থে ব্যবহৃত হয়। গঠিত হয় বিশেষণ।
√খা + রা = খারা (খাইয়ে)
রাইআ
/raia/একপ্রকার ছোট মাছ।
আঁশযুক্ত এই মাছ লম্বায় চার ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। গোলাকার। রুপোলি রং। নদীতে বাস।
রাইত
/rait̪/রাত্রিকাল।
রাইতকাল
/rait̪ɔkal/রাতের সময়।
রাইতে বিআলে
/rait̪e biale/রাত্রিতে; বেশিরাতে; অসময়ে।
দিনকাল বাদ, রাইতে বিআলে জেসাখানো বারইও না।
রাইতে বিরাইতে
/rait̪e birait̪e/দ্র. রাইতে বিআলে।
রাংগিবেত
/raŋɡibet̪/মাঝারি আকারের বেতগাছ বিশেষ।
জলাশয়ের পাড়ে বিশেষত নদী-নালা-বিল প্রভৃতির কাছে জন্মায় এই বেত। কোনো গাছের আশ্রয় পেলে ৬০-৭০ হাত পর্যন্ত লম্বা হয়। বিভিন্নরকমের আসবাব তৈরির কাজে এই বেত ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
রাকু
/raku/এখন।
এলকু চল, নাইলে তান লাগ পাইতে নায়। ≫ কালবাচকে স্বার্থিক প্রত্যয় ‘কু’ শব্দের উত্তর যুক্ত হওয়া বরাক উপত্যকার বাংলা আঞ্চলিক ভাষার বৈশিষ্ট্য। যেমন, এলকু, এবেলকু (=এখন) < এবেল + কু মাধানকু (=দুপুর) < মাধান + কু বিআনকু (= সকাল) < বিআন + কু . বিআলকু (= বিকাল) < বিআল + কু
রাখ
/rakʰ/রোগা; রোগেভোগে কৃশ হয়ে গেছে এমন; খাদ্যাভাবে কৃশ।
রাগ
/raɡ/মোটা কম্বল।
বরাকে সবরকম কম্বলকেই রাগ বলা হয়।
রাগচালা
/raɡɔtʃala/ঘরের সামনে বা পেছনে পরিবর্ধিত চাল বা বারান্দা
পিছেদি একখান আগচালা বানাইআ ঢেকি পাতিমু ৷
রাগচুরা
/raɡɔtʃura/যে বাঁশ বা গাছের আগায় শাখা বা পাতা নেই; যে ধানগাছের ছড়া ধানশূন্য। ⇒ আগচুরা ডলুদি মানডব ঘরর রুআ পুইত নায়।
রাগড়া বিরইন
/raɡɔɽা birɔin/বিরন ধানের প্রকার বিশেষ।
শালি ধানের অন্তর্গত। বড় দানার-হালকা সোনালি ধান। চাল সাদা। সুগন্ধযুক্ত ও সুস্বাদু। ভালোই ফলে।
রাগাই বুআল
/raɡai bual/সম্পদশালী ব্যক্তি।
রাগাইবুআল থইআ আমরার লাখান পুটি টেংরারে কিগে পুছায়!
রাছিম
/ratʃʰim/কচ্ছপ
কাছিমে গাংগর পারো ডিম পাড়ইন।
রাজর আগে
/razɔrɔ aɡe/নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে।
রাজর আগে তুমি বারই গেছ কেনে?
রাটা
/raʈa/বন্ধ করা।
ফাতারি মেঘ পড়ের দুআরখান খাট।
রাটাল
/raʈal/রান্নাঘর ; ভেতরের ঘর, যা মেয়েদের ঘর বলে পরিচিত।
বরাক উপত্যকার গ্রামদেশে রান্নাঘরই অন্তঃপুরের ভূমিকা নিয়ে থাকে।
রাড়া
/raɽা/বিপত্নীক।
‘বউর বছরকির আগে রাড়াইনতে হেংগা করইন।' — বরাক প্রবাদ
রাড়ি
/raɽি/বিধবা; যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা গেছে।
‘এড়ির দিন ফিরে / রাড়ির দিন ফিরে না।' — বরাকপ্রবাদ
রাতা
/rat̪a/একপ্রকার গাছ।
কাঠ লাল রঙের।
রাতা১
/rat̪a১/একপ্রকার গাছ।
কাঠ লাল রঙের।
রাতা২
/rat̪a২/বোরো জাতীয় ধান।
সোনালি রঙের ধান। চাল সাদা ও গোলাকার। মাঝারি দানা। স্বাদু। গন্ধ মন্দ নয়। ফলন মাঝারি।
রান
/ran/উরুদেশ; কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পুরো পা।
জুআন ছুরিএ রান ছেগরাইআ বইসে শরমভরম নাই।
রানদা
/ranɔd̪a/ধারালো ফলাযুক্ত কাঠ ছেঁচে মসৃণ করার যন্ত্র বিশেষ; রেঁদা; Plane।
যন্ত্রটি কাঠমিস্ত্রীদের। ১ ইঞ্চি থেকে তিন ইঞ্চি মাপের এবং গোল ফলাযুক্ত নানা রকমের রানদা আছে। যথা, জুরি রানদা, গুলাই রানদা, রাবিট রানদা, গুনা রানদা, পুস রানদা।
রানিদানি
/ranid̪ani/সব রকমের বাধা-নিষেধ।
রানিদানি না মানা
/ranid̪ani na mana/কোনোকিছুর পরোয়া না করা।
টেকার লাগি খালি একহাফতা বার চাইমু বাদে আর রানিদানি মানতাম নায়।
রাব
/rab/পাতলা গুড়; গলানো গুড়।
ইক্ষুরস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরির সময় প্রথম অবস্থায় যে ফেনিল ও হাল্কা লাল স্তর উপর থেকে রাখা হয় তাই-ই ‘রাব’। রাব পুরোনো হলে চিটাগুড়ে পরিণত হয়।
রাম
/ram/ক্ষুদ্র; ছোট।
রামকলা (ক্ষুদ্র বুনো কলা বিশেষ)।
রামকটা
/ramɔkɔʈa/রামডালা জাতীয় গাছ।
কাঠের রং রামডালার চাইতে সামান্য কালচে। পর্ণমোচী।
রামকলা
/ramɔkɔla/বনজ কলা বিশেষ।
ছোট গাছ। কলা ও কলার ছড়া সবই ছোটছোট। ভেতরে দুচারটি বিচি মেলে। বানর বাদুড়েরাই এই কলা খায়। খেতে অবশ্য মন্দ নয়। পাতা মসৃণ ও বড় বলে উৎসব অনুষ্ঠানে খুব কদর। জনশ্রুতি মতে, রামচন্দ্র বনবাসের সময় এই কলা খেতেন বলেই নাকি এরূপ নাম।
রামকুত্তা
/ramɔkut̪t̪a/বিড়াল জাতীয় গেছো জন্তু বিশেষ।
রামকুত্তা একটি ভয়ংকর গেছো জন্তু। মুখ কুকুরের মতো। সমস্ত শরীর লোমশ। লেজের লোমাবলি বড়, ফোলানো ও ঊর্ধ্বমুখী। আকৃতিতে বিড়ালের চেয়ে কিছু বড়। গাছ আরোহনে এমন দক্ষ প্রাণী আর নেই। খুব চতুর। খাদ্য ফলমূল ইত্যাদি। শত্রু কাছে এলে বিষাক্ত পেচ্ছাব করে শত্রুর চোখ কানা করে দেয়। তাই এই প্রাণীদের শিকার করার ঘটনা বিরল। বরাক উপত্যকার বনেজঙ্গলে রামকুত্তা প্রচুর দেখা যায়।
রামাইশ
/ramais/বরবটি।
কআ রামাইশ কাচাউ খাবা জায়।
রায় রায়
/raj raj/থেমে থেমে; রয়ে রয়ে; বারবার।
‘সমান হাল্লত তমইর পুআর / রায় রায় কানদের, / অতা দেখিআউ পরর পুড়ি / গলাত আনিআ বানধের।' — মাহ্তাবুর
রি
/ri/বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক বাংলা ভাষার খাঁটি কৃৎ প্রত্যয়। নিপুণ বা পারঙ্গম অর্থে ব্যবহৃত হয়।
√নাচ্ + রি = নাচরি (= নৃত্য পারদর্শিনী)
রি রি
/ri ri/একটু একটু।
খুব দূরে থাকার জন্য একটু একটু দেখা যাচ্ছে এমন ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
রিআ
/ria/বন্য ছাগল বিশেষ।
বুনো বড় ছাগল। শিং পাকানো দড়ির মতো এবং কোঁকড়ানো। এদের শিং বিষনাশক রূপে লোকায়ত ব্যবহারের কথা শোনা যায়।
রিওইল
/rioil/একটানা বহুজনের সমবেত চিৎকার; শোরগোল।
ধড়মড়াইআ উঠিআ হুনি পইছমেদি কিগুইনতে রিওইল দিত্রা – চুর-চুর!
রিওইল দেবা
/rioilɔ d̪eba/একটানা চিৎকার করা; শোরগোল করা।
রিঠাই
/riʈʰai/‘আঁষ ফলের মত গোল কঠিনত্বক ফল বিশেষ। ইহা জলে ভিজাইলে সাবানের ফেনার মত ফেনা হয় বলিয়া সংস্কৃতে ইহার নামান্তর “ফেনিল” এবং ইংরাজিতে “সাবানফল” soapnut। রীঠার জলে পশমী বস্ত্রাদি ধৌত করা হয়।' — জ্ঞানেন্দ্র মোহন দাস
বরাক উপত্যকা সহ উত্তর-পূর্ব ভারতে সাবান রূপে রিঠার ব্যবহার অতি প্রাচীন। রিঠা ফলের কদর বাজারেও আছে।
রিত
/rit̪/রীতি; স্বভাব।
বিআর রিত।
রিনদে রিনদে
/rinɔd̪e rinɔd̪e/হাড়ে হাড়ে; ভাঁজে ভাঁজে।
ই দলানর রিনদে রিনদে লেখা আছে কতকাল কত কথা!
রিনৃদ্
/rinrid̪/ছিদ্র।
দলানর তলে দি হরু হরু রিনদ্ পাবা গেছে।
রিন্দ্
/rind̪/ছিদ্র।
দলানর তলে দি হরু হরু রিনদ্ পাবা গেছে।
রিফুজিলত
/ripʰuzilɔt̪/এক প্রকার লতা জাতীয় আগাছা।
সকলের পরিচিত এই লতাটি যেখানে সেখানে হয়।
রিশ
/ris/আক্রোশ; প্রতিশোধ লওয়ার মনোভাব। লো ভাষার অভিধান ও ভাষাতত্ত্ত
তোর উফরে ডাকাইতর রিশ রইছে হুশ করি চ িন্ম।
রিশ্
/ris/আক্রোশ; প্রতিশোধ লওয়ার মনোভাব।
তোর উফরে ডাকাইতর রিশ রইছে হুশ করি চলিস।
রুআ
/rua/রোপণ করা।
উরেদি বা রুইও আর পুবেদি ধান।
রুই
/rui/কার্পাস বা শিমুল তুলা।
বালিশর টুলো রুই ভরিআ ঘনাইআ বখি দিস।
রুক
/ruk/কাঠ; শুকনো গাছ।
রুকা
/ruka/কাউকে আঘাত করার জন্য উদ্যত হওয়া।
একদিন তারে মারতাম করি রুকিশলাম।
রুগ
/ruɡ/যে ঠকায়; ঠগ।
কুন ফগে আইআ হকলতা ঠগাইআ লইআ জাইব।
রুচকা
/rutʃɔka/শরীরের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্থানচ্যুতি।
কচকার অশুদ তোর হড়িএ জানইন।
রুচমা
/rutʃɔma/কচি ; কাঁচা ; কোমল। — নাবালক বা নাবালিকা।
কচমা কাঠল দি তরকারি রানধইন।
রুজইন্ট্
/ruzɔinʈ/এক প্রকার গুল্ম জাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ।
গাছটি তিন থেকে চার হাত উঁচু হয়। চিরহরিৎ। অতি উপাদেয় ও উপকারী এই ভেষজের পাতা ব্যঞ্জন কিংবা ভেজে খেলে পেটের যে কোনো রোগ নিরাময় হয়।
রুজনাউলি
/ruzɔnauli/যে চায়; যাচক।
'কার বাড়িত কিতা ধরে, তারা জানইন ভালা, এর উফরে রাইত পুআইলে খুজনাউলির জালা।’ — আনন্দ
রুতিআ
/rut̪ia/বদ স্বভাবযুক্ত।
দ্র. খোআস্তি।
রুথি
/rut̪ʰi/যে বিয়ের ঘটকালি করে; ঘটক।
‘দাম্দর্ লগে আইছইন ইআর / তাইনউ রুথি ই বিআর।' — আনন্দ
রুনালি
/runali/পুঁয়ে সাপ; Worm Snake. ভেজা, স্যাঁতস্যাতে মাটিতে বা পাতার নিচে। এরা কেঁচো ও শৃককীট খেয়ে থাকে। অন্যান্য মেটে সাপের মতন এরা আত্মরক্ষার্থে লেজ উপরদিকে তুলে ধরে। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে কুদালি সাপ ‘পাথেনোজেনিক’। এদের দলে পুরুষ সাপ নেই। পুরুষের সাহায্য ছাড়া মেয়ে সাপ ৫ থেকে ৮ টা ডিম ফোটাতে পারে।
সর্পজগতে এই সাপ ক্ষুদ্রতম।এরা ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা হয়। কেঁচোর মতো দেখতে হলেও ছোট চোখ ও কুদ্র কুদ্র উজ্জ্বল আঁশ আছে। পুঁয়ে সাপেরা থাকে
রুন্দা
/rund̪a/পেটানো; রামধোলাই; প্রহার।
ভালাকরি রুনদা দিলে বাছাধন সাবুদ অইবা।
রুপশি
/rupɔsi/বরাক উপত্যকার মুখ্য বৃক্ষপূজা; শেওড়া গাছকে শিশুর সর্বমঙ্গল প্রদায়িকা রুপশি দেবী রূপে কল্পনা করে অনুষ্ঠিত পূজা।
বরাক উপত্যকার মুখ্য বৃক্ষপূজা হলো ‘রুপশি’ পূজা। এর সঙ্গে বঙ্গদেশের ষষ্ঠীদেবীর কিছুটা মিল রয়েছে। আশুতোষ ভট্টাচার্য লিখেছেন, “শিশুমৃত্যু বাংলার চিরকলঙ্ক, কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রাচীন সমাজে ইহার প্রকোপ স্বভাবতই অধিকতর ছিল। এই জন্যেই অজ্ঞ ও অসহায় সমাজ শিশুর রক্ষয়িত্রী রূপে কোনও কোনও দেবতার আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল, ষষ্ঠী তাহাদেরই অন্যতম ..... শিশুর রক্ষয়িত্রী রূপিনী বিভিন্ন দেবতা বলিয়া কল্পিত হইয়া কালক্রমে তাহাদের সকলেই এক ষষ্ঠী নামের মধ্যে আসিয়া অভিন্নত্ব লাভ করিয়াছে।”
রুফা
/rupʰa/ছোট ছোট গাছের ঝাড়; ঝোপ।
জালি বেতর ঝুফা।
রুবি
/rubi/শীতকালীন সবজি বিশেষ ; কপি।
ফুলকবি = ফুলকপি বানদা কবি = বাঁধাকপি গুটাকবি = ওলকপি ববাং 'কবি' তে পোর্তুগিস উচ্চারণ অনেকটা সংরক্ষিত।
রুবিলা
/rubila/সোজাসুজি।
কুনোকানো না উঠিআ রুবিলা তুমার অনো আইছি।
রুব্বটি মারা
/rubɔʈi mara/শক্ত করে কোঁচা মারা। কম্পানির মাছ বেশপানিত পড়া — বাগধা. ক্রি - দৈন্যদশা থেকে হঠাৎ আর্থিক স্বচ্ছলতায় পৌছা। ⇒ কম পানির মাছ বেশ পানিত পড়লে বুড়াবুড়ি করইন।
দ্র. কমটি।
রুম
/rum/লোম।
কুড়ারুম (= সোনালি লোম)।
রুম লাড়া
/rumɔ laɽা/শান্তিভঙ্গ করা; বিরুদ্ধাচারণ করা।
‘দেখছি জদি রুম লাড়ছো, / হারাইদিমু ডাকাতির কেইসো।' — মাহ্তাবুর
রুমটা
/rumɔʈa/গুচ্ছ; ঘনভাবে সন্নিবিষ্ট ক্ষুদ্র ফলের রাশি।
আগাত দুই ঝুমটা ভুবি পাককিছে।
রুমপুড়া
/rumɔpuɽা/একপ্রকারের চর্মরোগ।
এ রোগ হলে রোমের গোড়ায় কাঁটার মতো ফুসকুড়ি জন্মে। ব্যথা হয় ও চুলকায়।
রুরা
/rura/লাউডগা সাপ। 🗢 ক্চুআ সাপ একপ্রকার গেছো সাপ। এদের শরীর লম্বা ও সরু। ঝকঝকে সবুজ গায়ের রং এবং হালো মাথা ও জুলজুলে চোখ। এরা গাছে গাছে বেড়িয়ে টিকটিকি, গিরগিটি, মাকড়শা ও অন্যান্য প্রাকামাকড় খায়। এদের দাঁতে একটু-আধটু বিষ আছে, তবে সে বিষ মানুষ বা অন্য জন্তুর অনিষ্ট করতে পারে ন। বৈজ্ঞানিক নাম— Dryophis Nasutus. হৈবেজি নাম— Common Green Whip Snake. ক্ষাইভk১c∫u kheir়
রুৱা
/ruৱা/সাধন করা; কোনো কিছু নিষ্পাদন করা।
কিতা করডায় ? কাম করিআর।
রুশা
/rusa/হাতলযুক্ত চেপটা পালিশ করার সরঞ্জাম বা যন্ত্র বিশেষ।
রাজমিস্ত্রিরা এই যন্ত্রটি ব্যবহার করেন।
রুশে
/ruse/দ্রুতপদে; তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে।
বেমারর খবর পাইআ তাইন রুশে জাইতরা।
রুষ
/rus/চা, পান, তামাক প্রভৃতি পানের অভ্যাস বা (NA)
মোর বিড়ি তামাকুর কফ নাই।
রুষটি
/rusɔʈi/কপীনের মতো শক্ত করে মারা কাপড়ের কোঁচা; ধৃতি গামছা ইত্যাদির যে কুঞ্চিত অংশ কোমরের পেছন দিকে গোঁজা থাকে। কমটি মারিআ রুআত লাগি চল্।
কমটি খুলায় বেরো বেরা লাগি হে উলটিআ পড়ছে
রুষা
/rusa/কচুপাতার বর্ণ।
কচুআ রং মোর অলা ভালা লাগে।
রেউত
/reut̪/যা সম্পূর্ণভাবে সারেনি অল্প বাকি রয়েছে এমন অবস্থা।
যেমন, কারো শরীরে ঘা হয়েছে; চিকিৎসার পর দৃশ্যত শুকিয়ে গেলেও ভেতরে ঘা রয়েছে— এই অবস্থাকে ‘খেউত’ বলা হয়।
রেও
/reo/জলে জাল ফেলা ও তোলা।
আগে আনুআত পেলইন দি দুই খেও মারলেউ একবেলার মাছ অই জাইত।
রেগজাল
/reɡɔzal/মাছ ধরার বড় আকারের জাল বিশেষ।
১২ হাত লম্বা বড়মাছ ধরার জাল। জালটি লম্বায় ১২ হাত হলেও গোলাই বা পরিধি ৫০ হাত। একটি নৌকায় দুজন লোক জালটি বাইতে পারে।
রেগো
/reɡo/ওগো।
নারীকে সম্বোধনের বেলায় শুধু ব্যবহৃত হয়।
রেজাই
/rezai/লেপ; শীত নিবারক ভারী গাত্রাবরণ বিশেষ।
রেজিল
/rezil/নীচমনা; খারাপ স্বভাব যুক্ত।
ইগু অলা রেজিল মানু।
রেতি
/ret̪i/খুব সামান্য; অতি ছোট।
এক রেতি ঘি; রেতি রেতি মখা মাছ।
রেফা
/repʰa/গায়ে দেবার চাদর।
আইজ হাদারগামো গান রেফা গাত দি চল বারই জাই।
রেবা
/reba/ওহে।
এই সম্বোধন পদটি কেবল পুরুষের বেলায় প্রযোজ্য।
রেবো
/rebo/ওহে।
রেমা
/rema/তৃণ জাতীয় উদ্ভিদ।
এই তৃণের আগায় সূক্ষ্ম তন্তুর গুচ্ছ থাকে। এই তন্তুগুচ্ছ দিয়ে ঘর সাফ করার উত্তম ঝাড়ু তৈরি করা হয়। উত্তরপূর্বাঞ্চলে সর্বত্র তা পাওয়া যায়।
রেশারেশি
/resaresi/শত্রুতা; হিংসাহিংসি; অন্তর্দ্বন্দ্ব।
জমিন বাটাবাটি লইআ এলকু ভাইএ ভাইএ রেশারেশি।
রোং
/roŋ/তেজ; ঝাল।
ধানু মরিচর ঝেং বেশ। বি. [আলং] — অহংকার; পৌরুষ।
রোট্পিঠা
/roʈpiʈʰa/বিশালাকৃতি লৌকিক পিঠা বিশেষ।
‘রোট্পিঠা’ বরাক উপত্যকার মুসলমান সমাজে প্রচলিত। এই পিঠা তৈরির সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার যোগ রয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস। পিঠাটি যেহেতু এখন বিলুপ্তির পথে তাই তার প্রস্তুত প্রণালী এখানে উল্লেখ করা হল।
র্কুথি
/rkut̪ʰi/যে বিয়ের ঘটকালি করে; ঘটক। ‘দাম্দর্ লগে আইছইন ইআর
র্জা্
/rza্/সন্ধান করা।
দুইদিন তনে হে তার কাউক্নি খুজের, পার না।
র্বজন
/rɔzɔn/বনভূমির উচ্চশির মহীরুহ বিশেষ।
এই গাছ লম্বায় ১০০ হাতের মতো হয়। গুড়ির বেড় ২০ হাত পর্যন্ত হয়। সরল ঋজু বৃক্ষ। নিচের দিকে ডালপালা থাকে না। প্রায় সমস্ত ডালই গাছের উপরের দিকে থাকে। গাছটির বাকল বাদামি রঙের। লম্বা ফাটল যুক্ত। পাতা বেশ বড়, চাম গাছের পাতার মতো। ফুল পাতার কক্ষে ধরে। ফল ডিম্বাকৃতি সামান্য লাল। ফল ৩-৪ সেমি হলেও ফলে দুটি ১২-১৮ সেমি লম্বা পাখা থাকে। গর্জন গাছ থেকে ধূনা ও তেল হয়। বৈজ্ঞানিক নাম— Dipterocarpus Turbinatus gacrtn F.